Published : 16 Oct 2024, 01:07 AM
লালমনিরহাট থেকে দুটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করলেও তার সুবিধা পায় না জেলার চার উপজেলার প্রায় ১০ লাখ মানুষ। তাই জেলার সবশেষ উপজেলা পাটগ্রাম থেকে আন্তঃনগর ট্রেন চালুর দাবিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এই স্মারকলিপি দিয়েছে বুড়িমারী টু ঢাকা আন্তঃনগর ট্রেন বাস্তবায়ন আন্দোলন পরিষদ।
বিষয়টি দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে চার উপজেলার মানুষজন বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবেন বলেও স্মারকলিপিতে বলা হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, দেশের অন্যতম বুড়িমারী স্থলবন্দরটি লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলায় অবস্থিত। এই স্থলবন্দর দিয়ে যেমন বিভিন্ন পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়ে থাকে; তেমনি প্রতিদিন শত শত যাত্রী ভারত, নেপাল, ভুটান যাতায়াত করে থাকেন। কিন্তু বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে সরাসরি কোনো আন্তঃনগর ট্রেন না থাকায় রেল সেবা থেকে প্রায় বঞ্ছিত থেকে যাচ্ছেন দেশি- বিদেশি যাত্রী। শুধু তাই নয়, লালমনিরহাট জেলা ভৌগোলিকভাবে লম্বা হওয়ায় সদর বাদে বাকি চার উপজেলার প্রায় ১০ লক্ষাধিক মানুষও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয়রা বলেন, লালমনিরহাট জেলা সদর থেকে সোজা উত্তর দিকে আদিতমারী, এরপর কালীগঞ্জ, তারপরে হাতীবান্ধা এবং সর্বশেষ পাটগ্রাম উপজেলা অবস্থিত। ২০২৪ সালে ‘লালমনি এক্সপ্রেস’ ট্রেন উদ্বোধনের পর থেকে শুধু লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশন থেকে চলাচল করছে।
চলতি বছর ১২ মার্চ ‘বুড়িমারী এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি প্রথম দিন বুড়িমারী রেলওয়ে স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করে ঠিকই। কিন্তু পরদিন থেকে তা শুধু লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশন থেকে চলাচল করে আসছে। এতে করে জেলার চার উপজেলার প্রায় ১০ লাখ মানুষ সরাসরি যাতায়াত থেকে বঞ্ছিত হচ্ছেন।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, ঢাকার সঙ্গে সরাসরি ট্রেন চলাচলে বুড়িমারী রেলওয়ে স্টেশনে ওয়াস ফিডসহ প্রয়োজনীয় কিছু অবকাঠামো তৈরির জন্য তিন মাস সময় নিয়েছিল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতির প্রায় আট মাস হতে চললেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
এই অবস্থার মধ্যে ১২ সেপ্টেম্বর হাতীবান্ধা রেলওয়ে স্টেশনে শান্তাহার টু বুড়িমারী চলাচলকারী ‘করতোয়া এক্সপ্রেস’ ট্রেন প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রেখে প্রতিবাদ করে স্থানীয় ছাত্র-জনতা।
লালমনিরহাটের সাংবাদিক ফারুক হোসেন নিশাত বলেন, “আমাদের জেলার সঙ্গে রাজধানীতে যাতায়াতের দুটি আন্তনগর ট্রেনই চলে সদর থেকে। কিন্তু বাকি চার উপজেলার ১০ লাখ মানুষ কি এদেশের নাগরিক না?”
স্কুলশিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক রুবেল বলেন, “পাঁচ উপজেলা নিয়ে লালমনিরহাট জেলা গঠিত। কিন্তু চার উপজেলার মানুষজনসহ বুড়িমারী স্থলবন্দরের দেশি-বিদেশি যাত্রীরা অন্তঃনগর ট্রেনে করে সরাসরি ঢাকা যেতে পারছেন না। এটা কোন ধরনের বৈষম্য।”
বুড়িমারী টু ঢাকা আন্তঃনগর ট্রেন বাস্তবায়ন আন্দোলন পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক শওকত হোসেন আহমেদ বলেন, “দ্রুত বুড়িমারী টু ঢাকা সরাসরি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
লালমনিরহাট রেলওয়ের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) আব্দুস সালাম বলেন, “বুড়িমারী থেকে সরাসরি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচলে আমরা আরও একটি রেক ও বুড়িমারী স্টেশনে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির জন্য কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি। সেখান থেকে উদ্যোগ নেওয়া হলে বুড়িমারী থেকে সরাসরি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল সম্ভব হবে।”