Published : 21 Oct 2024, 11:13 AM
যশোরের শার্শার ডিহি ইউনিয়নের 'বেলতা খালের' ওপর নির্মিত একটি বাঁশের সাঁকো ভেঙে যাওয়ায় ১৫টি গ্রামের অন্তত ৩০ হাজার মানুষ যাতায়াতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
সরকার উদ্যোগ না নেওয়ায় শার্শার ডিহি ইউনিয়নের সাড়াতলা ও ঝিকরগাছার সংযোগ রক্ষাকারী সাড়াতলা-বেলতা সড়কের বেলতা খালের ওপর গ্রামবাসীরা সম্পূর্ণ নিজেদের উদ্যোগে কাঠ ও বাঁশ দিয়ে সাঁকোটি নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু চলতি বর্ষা মৌসুমে অধিক বৃষ্টিপাত হওয়াতে সাঁকোর উপরে পানি উঠে গিয়ে সেটি ভেঙে গেছে।
প্রায় দুই মাস ধরে সাঁকোটি দিয়ে চলাচল করা যাচ্ছে না। ফলে সাড়াতলা-বেলতা সড়ক ধরে চলাচলকারী আশপাশের অন্তত ১৫টি গ্রাম মানুষ ‘বিশেষ প্রয়োজনে’ কলা গাছের ভেলা দিয়ে খাল পারাপার হচ্ছেন। এতে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে তাদের।
এলাকাবাসীরা বলছেন, সাঁকোটি ভেঙে পড়ায় হওয়ায় প্রতিদিন মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও শিক্ষার্থীরা চলাচল করছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। কৃষিপণ্য মাঠ থেকে আনা ও বাজারজাতকরণে সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
শার্শার সাড়াতলা এলাকার নুর ইসলাম নামে এক সমাজকর্মী বলেন, “কয়েক বছর আগে গ্রামবাসীর কাছ থেকে চাঁদা তুলে সাঁকোটি তৈরি করা হয়। ওই সাঁকো ব্যবহার করে পণ্ডিতপুর, সাড়াতলা, গোকার্ণ, দুর্গাপুর, চন্দ্রপুর, খলিসাখালী, পাকশিয়া, কাশিপুর ও বাউন্ডারিসহ আশপাশের ১৫টি গ্রামের অন্তত ৩০ হাজার মানুষ যাতায়াত করে আসছিলেন।
“কিন্তু চলতি বর্ষা মৌসুমে অধিক বৃষ্টিপাত হওয়াতে সাঁকোর ওপরে পানি উঠে গিয়ে স্রোতে সাঁকোটি ভেঙে গেছে। ফলে এই রাস্তাটি চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে এলাকাবাসী।”
বেলতা গ্রামের কৃষক আহম্মদ আলী বলেন, “মাঠের ফসল বাড়ি নিযাতি খুব সেকোস্ত (দুর্ভোগ) হচ্ছে। দুই-তিন মাইল ঘুরে যাতি হয়, না হলি ভ্যালায় করি ফসল পার করতি হয়। এতে সুমায়, ফসল সবই খ্যায় হচ্ছে।“
স্থানীয় একটি কলেজের ছাত্র আবুল হাসান বলেন, “আগে বাড়ি থেকে কলেজে যেতে ২৫ মিনিট সময় লাগতো। কিন্তু সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ার পর পথ বেড়েছে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার। এখন কলেজ যেতে ৪০-৪৫ মিনিট বেশি সময় লাগে।”
ডিহি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মুকুল বলছিলেন, “সেতু নির্মাণের সব কাগজপত্র উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে নিয়ে ঢাকা এলজিইডি দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছিল। প্রকল্প পরিচালক দ্রুততম সময়ে কাজ শুরু হবে বলে আশ্বস্ত করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখছি না।”
শার্শা উপজেলা প্রকৌশলী সানাউল হক বলেন, “জনগুরুত্বপূর্ণ বেলতা খালে সেতু নির্মাণে ২০২০ সাল থেকেই প্রস্তাবনা পাঠানো হচ্ছে। এখন এটা টেন্ডারের অপেক্ষায় রয়েছে।”
খালের উপর ১০০ মিটার সেতু নির্মাণ দ্রুত বাস্তবায়নের আশা করেন তিনি।