Published : 07 Mar 2026, 04:29 PM
কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার ঘটনা তদন্তে কমিটি করেছে প্রশাসন।
শনিবার দুপুরে প্রশাসনের জরুরি সভা শেষে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. মনজুরুল হক বলেন, “পাঁচ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। কেন, কী প্রেক্ষাপটে হত্যার ঘটনা ঘটল তার চিত্র তুলে ধরে দ্রুততম সময়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।”
কমিটিতে হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক মো. মিজানুর রহমানকে আহ্বায়ক এবং উপ-রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) মো. গোলাম মওলাকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। অন্য সদস্যরা হলেন- বাংলা বিভাগের অধ্যাপক রশিদুজ্জামান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম এবং লালন শাহ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক গাজী আরিফুজ্জামান খান।
কমিটির আহ্বায়ক মিজানুর বলেন, “বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে এখনও কাগজপত্র হাতে পাইনি। কমিটির সবার সঙ্গে কথা বলে কর্মকৌশল ঠিক করা হবে। আমরা চেষ্টা করব, যত দ্রুত সম্ভব প্রতিবেদন দিতে।”
এদিকে শিক্ষক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার প্রতিবাদ, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শনিবার কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্বজনরা।
বুধবার বিকালে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি আসমা সাদিয়া রুনাকে তার কক্ষে ছুরিকাঘাত করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ফজলুর রহমানকেও গলায় ক্ষতসহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ, প্রশাসন দুজনকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক নারী শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন।
বৃহস্পতিবার শিক্ষিকা রুনাকে দাফনের পর পর তার স্বামী মুহা. ইমতিয়াজ সুলতান চারজনকে আসামি করে মামলা করেন।
‘অতীতের কিছু ঘটনা’, অফিস সহায়কের বদলি, একজন শিক্ষকের বিভাগীয় প্রধান হওয়ার ‘দুরভিসন্ধি’র পরিপ্রক্ষিতে বিভাগের তিন সহকর্মীর ‘সরাসরি প্ররোচনা ও নির্দেশনায়’ একজন কর্মচারী কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি আসমা সাদিয়া রুনাকে ছুরি মেরে হত্যা করেছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
তিন সহকর্মীর দুজন শিক্ষক; তারা হলেন- বিভাগের সাবেক প্রধান সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার এবং সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান। অপরজন বিভাগের সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার এবং বর্তমানে উম্মুল মোমেনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস।
আর কর্মচারী হলেন খন্দকার ফজলুর রহমান। তিনি সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক মাস্টার রোলের কর্মচারী। ২০১৮ সাল থেকে তিনি সেখানে কাজ করছেন। সম্প্রতি তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বদলি করা হয়।
মামলার প্রধান আসামি ফজলু বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের শান্তিডাঙ্গা গ্রামের হামিদুর রহমানের ছেলে। তিনি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ ইউনিটে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি আশঙ্কামুক্ত বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।
আসমা সাদিয়া রুনা দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরের আশিকুল হক রুহুলের মেয়ে। তার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের খণ্ডকালীন শিক্ষক। এই দম্পতির তিন মেয়ে ও এক ছেলে। তারা কুষ্টিয়া শহরের কোর্টপাড়া এলাকার মীর মশাররফ হোসেন সড়কে থাকেন।
আরও পড়ুন:
ইবির শিক্ষক হত্যার বিষয়ে যা জানা যাচ্ছে
ইবি শিক্ষক রুনার দাফন, তিন সহকর্মী ও কর্মচারীর নামে হত্যা মামলা