রাজশাহীতে ৪১ শিশু-কিশোরকে প্রবেশনে মুক্তি
মাদক সেবন ও বহন, মারামারির মতো ঘটনায় ৩৪ মামলায় আসামি হয়েছিলেন ৪১ জন শিশু-কিশোর।
রাজশাহীতে বিভিন্ন মামলায় ৪১ শিশু-কিশোরকে প্রবেশনে মুক্তি দিয়েছে আদালত; কয়েকটি শর্তে তাদের এ মুক্তি দেওয়া হয়।
সোমবার রাজশাহী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মুহা. হাসানুজ্জামান ৩৫ জনের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নাসরিন আক্তার মিতা জানান।
রায়ের পর বিচারক প্রত্যেকের হাতে জাতীয় পতাকা ও ফুল দিয়ে বিদায় জানান।
আইনজীবী নাসরিন আক্তার বলেন, ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত রাজশাহীতে শিশু আইনে হওয়া মামলার মধ্যে মাদক সেবন, বহন ও মারামারির মতো ঘটনায় ৩৪ মামলায় আসামি হয়েছিল ৪১ জন শিশু-কিশোর। প্রথমবারের মতো এমন অপরাধে অপরাধী হওয়ায় বিচারক তাদের সরাসরি সাজা না দিয়ে প্রবেশনে তাদের মুক্তি দেন।
তিনি বলেন, এ সব শিশু-কিশোররা তাদের বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে থাকবেন, বাবা-মার কথা শুনবেন এবং ভালো আচরণ করবেন, লেখাপড়ায় মনোযোগী হবেন, ভালো কাজ করবেন এবং দেশবিরোধী কোনো কাজ করা যাবে না এমন শর্ত দেওয়া হয়।
তাদের ওপর আরোপিত শর্তগুলো পালন হচ্ছে কিনা তা নিয়মিত তদারকি করবেন ও জেলা প্রবেশন কর্মকর্তা আদালতে প্রতিবেদন দেবেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।
জেলা প্রবেশন কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “প্রবেশন বলতে বোঝায়, কোনো অপরাধীকে তার প্রাপ্য শাস্তি স্থগিত রেখে এবং কারাগারে না পাঠিয়ে সমাজে খাপ খাইয়ে চলার সুযোগ দেওয়া।
“প্রবেশন ব্যবস্থায় প্রথম ও লঘু অপরাধে দণ্ডিত শিশু-কিশোর বা অন্য কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে কারাগারে না পাঠিয়ে আদালতের নির্দেশে শর্তসাপেক্ষে প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে নিজ বাসায় বা পরিবারের সঙ্গে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়।”
তিনি বলেন, এক বছরে রাজশাহীর শিশু আদালত-২ এর বিজ্ঞ বিচারক ৮০ মামলায় ৮০ জন শিশুর কল্যাণে পারিবারিক সম্মেলনের মাধ্যমে ডাইভারশন গ্রহণের জন্য প্রবেশন কর্মকর্তাকে আদেশ প্রদান করেন।
“আদালতের আদেশে আমরা বিদ্যমান মামলার বাদী ও শিশুর অভিভাবকের উপস্থিতিতে শিশুর চারিত্রিক, মানসিক, আবেগীয় উন্নতির জন্য উপযুক্ত শর্তসমূহ আরোপ করি।”
ডাইভারশনের মেয়াদ সম্পন্ন এবং আরোপিত শর্তসমূহ যথাযথভাবে প্রতিপালন করায় আদালত আজ ৪১ জন শিশুকে চূড়ান্ত মুক্তি দিলেন বলে জানান এই প্রবেশন কর্মকর্তা।
