Published : 03 Jul 2026, 07:09 PM
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে শ্রমিক ইউনিয়নের এক নেতাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি যুবদলের এক নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ঘটনার দুই দিন পর বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে মামলাটি করেন বলে জানিয়েছেন গৌরীপুর থানার ওসি হাবিবুর রহমান।
নিহত মানিক মিয়া (৪০) গৌরীপুর পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড সতিশা রোড এলাকার আজিবুল ইসলামের ছেলে। তিনি গৌরীপুর উপজেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সহসভাপতি এবং গাড়ি চালক ছিলেন।
মামলার প্রধান আসামি মো. শোয়েব মুন্সি ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক।
শুক্রবার বিকালে ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, মানিক মিয়ার স্ত্রী সোমাইয়া আক্তার সেলিনা আটজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে মামলাটি করেন।
মানিক মিয়ার ছোট ভাই সুখ মিয়া বলেন, যুবদল নেতা শোয়েব মুন্সির সঙ্গে তাদের পরিবারের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। তার ভাই পালকি গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
“মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে আমার ভাই গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ডে বসেছিলেন। এ সময় শোয়েব মুন্সি ১০ থেকে ১৫ জন লোক নিয়ে এসে ভাইকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করেন। পরে সেখান থেকে সতিশা রোড এলাকায় নিয়ে ভাবিকে ডেকে এনে ভাইকে দিয়ে চলে যান তারা”, বলেন তিনি।
সুখ মিয়া বলেন, মানিক মিয়াকে গুরুতর অবস্থায় গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৩টার দিকে তিনি মারা যান।
ঘটনার পরদিন নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. শোয়েব মুন্সিকে সংগঠনের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
পরে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্ব) মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে শোয়েব মুন্সিকে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়; যা সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ফেইসবুক আইডি থেকে পোস্ট করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বহিষ্কৃতদের কোনো ধরনের অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল নেবে না। যুবদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের সিদ্ধান্তে এ আদেশ কার্যকর করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে শোয়েব মুন্সিকে মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলে তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।