১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ময়মনসিংহে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮ মাস বয়সী শিশুর মৃত্যু

হাসপাতালটিতে হাম বা উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ জনে।

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 19 May 2026, 10:30 AM

Updated : 26 Aug 2026, 03:38 PM

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে হাসপাতালটিতে হাম বা উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ জনে।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাত ২টা ৪০ মিনিটে শিশুটির মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের সিনিয়র স্টোর অফিসার ডা. ঝন্টু সরকার।

শিশুটি ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের মো. শাহ আলমের মেয়ে। হামের উপসর্গ নিয়ে গত ১৭ মে তাকে হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল।  

মঙ্গলবার সকালে পাঠানো ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হামের রোগীদের তথ্য নিয়ে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৩৪ শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চিকিৎসাধীন রয়েছে ১০৪ জন শিশু। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে আরও ৩২ শিশু।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ১৭ মার্চ থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ৪৫২ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ হাজার ৩১৪ শিশু। 

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে হামের লক্ষণ নিয়ে রোগী ভর্তি শুরু হয়। মার্চের মাঝামাঝি থেকে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। 

হাম রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ৬৪ শয্যার একটি পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু রয়েছে। সেখানে তিনটি মেডিকেল টিম চিকিৎসা দিচ্ছে।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকাল পারসন মোহা. গোলাম মাওলা বলেন, আজ (মঙ্গলবার গভীর রাতে) মারা যাওয়া শিশুটি হামের উপসর্গের পাশাপাশি অন্যান্য জটিল রোগেও আক্রান্ত ছিল। মূলত শারীরিক জটিলতা বেড়ে যাওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে। 

তিনি বলেন, “হামে আক্রান্ত হলে রোগীদের ইমিউনিটি কমে যায়। তখন নিউমোনিয়াসহ অন্য সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। আমরা দেখছি নিউমোনিয়ার টিকায় ড্রপআউট বেশি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “দেশের অনেক শিশু অপুষ্টিতে ভোগে। অপুষ্টির কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে, আর হাম হলে সেই জটিলতা আরও তীব্র হয়। শিশুদের জন্য হাসপাতালে আইসিইউ না থাকায় গুরুতর রোগীদের ‘বাবল সিপ্যাপ’ পদ্ধতিতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় পাঠানো হয়।