সারা বছর আম, বাড়ছে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা

‘আমার বাগানে সারা বছর আম থাকে। আমগুলো সুস্বাদু। অনেকেই দেখতে আসেন এবং আগ্রহ দেখান।”

মনোজ সাহা, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 29 July 2022, 06:05 AM
Updated : 29 July 2022, 06:20 AM

সারা বছর আমের স্বাদ দিতে এগিয়ে চলেছে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী হর্টিকালচার সেন্টারের কার্যক্রম; ইতোমধ্যেই যারা দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামে গড়ে তুলেছে ‘একশটি’ প্রদর্শনী বাগান; যা থেকে নিজেদের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিক্রি করতে পারছেন খামারিরা।

মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য সেন্টারটি প্রদর্শনী বাগান করে সম্ভাবনা দেখিয়ে দিচ্ছে। পরামর্শ ছাড়াও তারা দিচ্ছে চারাসহ নানা রকম সহযোগিতা।

সেন্টারের উপ-পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “সেন্টারের মাতৃগাছ থেকে ইতোমধ্যেই আমরা এক লাখ কলমের চারা তৈরি করেছি। এখান থেকে সরকার নির্ধারিত সুলভ মূল্যে দেশি-বিদেশি আমের চারা বিক্রি করা হচ্ছে। এগুলো গোপালগঞ্জ ও আশপাশের জেলায় ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।”

তাদের আমের জাতগুলো উচ্চফলনশীল জানিয়ে তিনি বলেন, মৌসুম ছাড়াও সারা বছর ফল দেওয়া আমের জাতও এর মধ্যে রয়েছে। মৌসুমের আগে-পরে এসব আম বাজারে অধিক দামে বিক্রি হয়। এছাড়া বারমাসি আম চাষে খামারিরা অধিক লাভবান হন।

“আমরা ইতোমধ্যে একশটি প্রদর্শনী বাগান করেছি। এখানে সব জাতের আম রাখা হয়েছে। এসব বাগানে আম ধরেছে। এছাড়া বাড়ির আঙ্গিনায় আমসহ বিভিন্ন ফল চাষে আমরা মানুষকে উদ্বুদ্ধ করছি। তারা ফলের চারা লাগিয়ে সারা বছর ফল থেকে পুষ্টির চাহিদা পূরণ করছেন।”

কাশিয়ানী হর্টিকালচার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ৫০ প্রজাতির আম ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, “ছড়িয়ে দিতে পারলে এ অঞ্চলে সারা বছর আম পাওয়া যাবে। মানুষ সারা বছর রসালো আমের অম্লমধুর স্বাদ নিতে পারবেন।

“দেশি-বিদেশি ৫০ প্রজাতির আম বাণিজ্যিক চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে কাশিয়ানী হর্টিকালচার সেন্টার।”

সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ এএইচএম রাকিবুল ইসলাম আরও বেশি আশাবাদী।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা আমের বাণিজ্যিক চাষের প্রসার ঘটিয়ে কৃষকের আয় দ্বিগুণ করে দিতে চাই। তাই আমরা বিশ্বের নামী-দামি আমের জাতের পাশাপাশি দেশি আমের জাতের চাষ সম্প্রসারণে কাজ করে যাচ্ছি। এসব জাতের বাগান করলে চাষি সারা বছর ২৫ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০ টাকা কেজি দরে আম বিক্রি করতে পারবেন।”

কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল গ্রামের বাসিন্দা পরশ উজিরের (৩৫) এক একর জমিতে একটি প্রদর্শনী বাগান করা হয়েছে হর্টিকালচার সেন্টার থেকে।

পরশ উজির বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “হর্টিকালচার সেন্টার চার বছর আগে আমাদের অনাবাদী জমিতে একটি মিশ্র ফলবাগান করে দেয়। এই বাগানে আম ধরেছে। আমগুলো সুস্বাদু। বাগানে সার বছর আম থাকে।

“অনেকেই আমাদের বাগান দেখতে আসছেন এবং বাণিজ্যিক আমবাগান করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।”

গোপালগঞ্জের সাংবাদিক প্রসিতকুমার দাসের বাড়ির আঙ্গিনায় ফলবাগান গড়ে তুলছে কাশিয়ানী হর্টিকালচার সেন্টার।

“এটাকে আমরা বলছি ‘বছরব্যাপী ফল চাষের মাধ্যমে পুষ্টির চাহিদা পূরণের প্রকল্প’। এ প্রকল্পের মাধ্যমে এ অঞ্চলে আমসহ বিভিন্ন ফলের চাষ সম্প্রসারিত হচ্ছে। এটি সফল হলে এ অঞ্চলে আমের বিপ্লব ঘটবে। আম চাষ করে অনেকেই সাবলম্বী হবেন। অমৃত ফল আম এ অঞ্চলের মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি,” এমনই আশার কথা শোনান উদ্যানতত্ত্ববিদ রাকিবুল ইসলাম।

তাদের সেন্টারের আমগুলোর রয়েছে বাহারি সব নাম।

কাটিমন, কিউজাই, ব্যানানা, ব্রুনাই কিং, আশ্বিনা, সুরমাই ফজলি, পাহাড়ি ফজলি, চিনি ফজলি, নাগ ফজলি, হাড়িভাঙা, মেহেদি, কাঁচামিঠা, গৌরমতী, বান্দিগৌড়, থাইজাম্বুরা, তোতাপুরি, সূর্য ডিম, কিং অব চাকাপাত, আপেলস্টার, মল্লিকা, গোলাপখাস, তিলেবোম্বাই, সুলতানা, ঝিঙ্গেলতা, বৈশাখী, সূর্যপুরী, আলতাপেটি, দুধসর, মিছরিদানা, কাকাতুয়া ইত্যাদি।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক