১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

পার্বত্য জেলা পরিষদে ‘দলীয়করণের’ অভিযোগ এনসিপির, নির্বাচনের দাবি

তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠনের এক সপ্তাহের মাথায় এনসিপির পক্ষ থেকে এই প্রতিক্রিয়া এল।

রাঙামাটি প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Aug 2026, 07:15 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:54 PM

তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠনে ‘দলীয়করণের’ অভিযোগ করেছে এনসিপি। দলটি এই পুনর্গঠিত পরিষদ ভেঙে দিয়ে ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে।   

বুধবার দুপুরে এনসিপি দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনার সই করা এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানায় দলটি। 

২০ অগাস্ট বিকালে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠনের এক সপ্তাহের মাথায় এনসিপির পক্ষ থেকে এই প্রতিক্রিয়া এল।

বিবৃতিতে বলা হয়, “পার্বত্য জেলা পরিষদসমূহের চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। বিশেষ করে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান এই তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে বিএনপি ছাড়া অন্যান্য রাজনৈতিক মত, সামাজিক শক্তি ও রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরের জনগণের প্রতিনিধিত্ব কার্যত অনুপস্থিত। এমন একতরফা রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব জেলা পরিষদসমূহের নিরপেক্ষতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র এবং জনগণের আস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।”

এতে বলা হয়, “এনসিপি মনে করে, পার্বত্য জেলা পরিষদ কোনো রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক প্রতিষ্ঠান নয়; এটি জনগণের প্রতিষ্ঠান। ফলে দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে নয়, বরং যোগ্যতা, সততা, অভিজ্ঞতা, জনসম্পৃক্ততা, স্থানীয় বাস্তবতা এবং বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের ন্যায্য প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হওয়া উচিত।” 

এনসিপি বলে, ১৯৮৯ সালের পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন প্রণয়নের পর ১৯৮৯ সালেই পার্বত্য জেলাগুলোতে একবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু এরপর দীর্ঘ সময় ধরে প্রত্যক্ষ ও নিয়মিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হয়ে বিভিন্ন সময়ে সরকার মনোনীত বা অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়ে আসছে। ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের যে গণতান্ত্রিক অধিকার, তা দীর্ঘদিন ধরে কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়নি।

“খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে সরাসরি ও অবাধ নির্বাচন আয়োজনের জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। নির্বাচন পর্যন্ত যেকোনো অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলীয় আনুগত্যের পরিবর্তে যোগ্যতা, নিরপেক্ষতা, স্থানীয় জনগণের প্রতিনিধিত্ব এবং বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।”