Published : 17 Sep 2025, 03:48 PM
সিলেটের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথর লুটের মামলায় গ্রেপ্তার বিএনপি নেতা সাহাব উদ্দিনের মুক্তি দাবি করায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিস বা শোকজ করেছে জেলা কমিটি।
বুধবার সকালে সিলেট জেলা বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক মাহবুব আলম স্বাক্ষরিত চিঠিতে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুল মান্নান ও সাধারণ সম্পাদক আলী আকবরকে শোকজ বলা হয়।
এর আগে সোমবার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে পদ স্থগিত হওয়া সাহাব উদ্দিনকে গ্রেপ্তারে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তার নিঃশর্ত মুক্তি চাওয়া হয়।
বিবৃতিতে সাহাব উদ্দিনকে সাদাপাথর লুটের মামলায় মিথ্যা অভিযোগে গ্রেপ্তার এবং তার পদ স্থগিত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
শোকজের বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর বলেন, “চিঠি পেয়েছি। তবে আমরা নির্দোষ। কোনো বিবৃতিতে স্বাক্ষর করিনি। ওইদিন আমি আর সভাপতি চিকিৎসার জন্য ঢাকাতে ছিলাম।”
কারণ দর্শানোর নোটিসে উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জেলা কমিটির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরীকে সশরীর উপস্থিত হয়ে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
সেইসঙ্গে দায়িত্বহীনতা ও সংগঠনের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে কেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তারও লিখিত জবাব চাওয়া হয়েছে।
নোটিসে আরও বলা হয়েছে, “সম্প্রতি কেন্দ্রীয় বিএনপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাহাব উদ্দিনের সব দলীয় পদ স্থগিত করা হয়। এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকাবস্থায় তার পক্ষে আপনারা গণমাধ্যমে বিবৃতি প্রদান করেছেন; যা সরাসরি বিএনপির নীতি, আদর্শ ও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের পরিপন্থি এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল।”
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সংগঠন পরিপন্থি কাজ করায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির দুই নেতাকে শোকজ করা হয়েছে। তাদের লিখিত জবাব পাওয়ার পরই এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে শনিবার রাতে সিলেট নগরের আম্বরখানা এলাকা থেকে সাহাব উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। তিনি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন। গত ১১ অগাস্ট চাঁদাবাজি ও দখলবাজিসহ দলীয় নীতি ও আদর্শবিরোধী কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে সাহাব উদ্দিনের পদ স্থগিত করে কেন্দ্রীয় বিএনপি।
এদিকে সাহাব উদ্দিনকে গ্রেপ্তারের পর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সাদাপাথর লুটপাটের ঘটনায় সাহাব উদ্দিনকে ‘মূলহোতা’ হিসেবে দাবি করে র্যাব।
সাদাপাথর লুটের ঘটনায় ১৫ অগাস্ট কোম্পানীগঞ্জ থানায় খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর করা মামলায় সাহাব উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও এক হাজার থেকে দেড় হাজার জনকে আসামি করা হয়।
আরও পড়ুন:
'সাদাপাথর লুট': এবার প্রকাশ্য অনুসন্ধানে দুদক
পাথর লুটপাটের ঘটনায় গোপনীয়তা বজায় রেখে কাজ হচ্ছে: সচিব
সাদাপাথর পরিদর্শনে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের তদন্ত দল
সিলেট থেকে শতাধিক ট্রাকে পাথর গেল 'সাদাপাথরে'
দুদকের অনুসন্ধান: পাথর লুটে রাজনীতির পেশী, 'ভাগ পেত' প্রশাসন