জাতিসংঘ অধিবেশনের সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক হতে পারে: প্রতিমন্ত্রী
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির।
জাতিসংঘ অধিবেশনের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের সম্ভাবনার কথা বলেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেছেন, “নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বার্তা নিয়ে জাতিসংঘে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা আছে।”
শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সিলেট নগরে হোটেল স্টার প্যাসিফিকে জেলায় কর্মরত টেলিভিশন সাংবাদিকদের সংগঠন ‘ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের’ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় এসব বলেন তিনি।
এর আগে শুক্রবার জুমার নামাজের পর হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের বক্তব্য নিতে গিয়ে সাংবাদিকদের হেনস্তার অভিযোগ উঠে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিএনপির সব অনুষ্ঠান ও কর্মসূচির বয়কটের ঘোষণা দেন টেলিভিশন সাংবাদিকরা।
পরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং কেনা নিয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নে জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, “বোয়িং কিনতে হবে, এটা কেউ চাপিয়ে দিচ্ছে না। চাহিদা আছে বলেই আমেরিকা থেকে বোয়িং কেনা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও কেনা হবে।”
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের দিন-তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এ নিয়ে কথাবার্তা চলছে। তবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের কোনো সম্ভাবনা নেই।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশে সম্পর্ক নিয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “দুই দেশের সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা-সম্পৃক্ততা ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে এগিয়ে নিতে হবে। বাংলাদেশের জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতার বিষয়গুলোও এ সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের একটি কার্যকর সম্পর্ক থাকা প্রয়োজন।
“সেইসঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের প্রত্যাশার বিষয়গুলো ভারতকে উপলব্ধি করতে হবে। ভারতের নীতিনির্ধারকেরা বিষয়টি বুঝতে শুরু করেছেন। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে তার দুই দফা সাক্ষাৎ হয়েছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আলোচনার মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও ইতিবাচক পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব।”
রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র, চীন, সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে। সেইসঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গেও একটি কার্যকর কর্ম সম্পর্ক গড়ে উঠছে।
“নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই এমন একটি পররাষ্ট্রনীতির কাঠামো নিয়ে কাজ করছে, যেখানে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ শক্তিগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় থাকে। ওয়াশিংটন, বেইজিং, সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর পাশাপাশি রাশিয়ার সঙ্গেও সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’’
সরকারের নির্বাচনি বৈধতা ও জনগণের সমর্থনের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের দৃশ্যমানতা ও কৌশলগত গুরুত্ব বেড়েছে বলে মনে করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের কৌশলগত সম্পর্ক দেশের ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক সম্ভাবনা তৈরি করছে বলে বিশ্বাস হুমায়ুন কবিরের।
পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পররাষ্ট্রনীতিতে প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বয়, পুনর্বিন্যাস ও কৌশল পরিবর্তনের সুযোগ থাকতে হবে। বৈদেশিক সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতাকেও একই কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখতে হবে।
“বৈদেশিক, অর্থনৈতিক, তথ্য ও নিরাপত্তা সহযোগিতা পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই এগুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির কাঠামোকে সমন্বিত ও পরস্পরের পরিপূরক হতে হবে।”
মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “মক্কা চুক্তি নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলতেছে। এতে যুক্ত হওয়া বাংলাদেশের জন্য অস্বাভাবিক নয়। অনেক দেশই এখন একাধিক নিরাপত্তা জোটে থাকছে। জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে যেখানে যাওয়া দরকার, সেখানে যাওয়া হবে।”
মালয়েশিয়ায় শ্রমশক্তি রপ্তানির বিষয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সিন্ডিকেটের কারণে মালয়েশিয়ায় শ্রমশক্তি রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। বর্তমান সরকার এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছে। ধাপে ধাপে শ্রমশক্তি রপ্তানি হবে।
আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, “ভুটান, বাহরাইন ও শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারের চেষ্টা চলছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে অভিন্ন স্বার্থে আঞ্চলিক দেশগুলো যাতে সমন্বিত অবস্থান নিতে পারে, সে বিষয়েও বাংলাদেশ কাজ করছে।”
এ সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
