Published : 04 Jan 2026, 05:16 PM
যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় আসন্ন ত্রায়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-৩ আসনে (উলিপুর) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাহবুবুল আলমের সালেহীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা।
রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার অন্নপূর্ণা দেবনাথের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেন।
এর আগে গত ২ জানুয়ারি কুড়িগ্রাম-৩ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই প্রক্রিয়ায় জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহীর মনোনয়নপত্র স্থগিত করেন রিটার্নিং অফিসার।
মনোনয়ন বাতিল ঘোষণার পর প্রতিবাদে সম্মেলন কক্ষের ভেতর ও বাইরে জামায়াতের বিক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
জানা গেছে গত ২ জানুয়ারি মাহাবুবুল আলম সালেহীর দ্বৈত নাগরিকত্বের কাগজপত্রের জটিলতার কারণে মনোনয়ন পত্র স্থগিত ঘোষণা করা হয়। রোববার দুপুর ২টার মধ্যে বৈধ কাগজপত্র নিয়ে রিটানিং কর্মকর্তার অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়। সে অনুযায়ী জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী তার লোকজনসহ কাগজপত্র নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় জেলা রিটার্নি কর্মকর্তা অন্নপূর্ণা দেবনাথ তার অফিস কক্ষ থেকে কনফারেন্স কক্ষে বসেন।
সেখানে তিনি জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহীর মনোনয়ন পত্রের সঙ্গে দাখিল করা দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুটি ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় মনোনয়ন পত্রটি বাতিল ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিয়ে জামায়াত প্রার্থী ও দলের নেতৃত্ববৃন্দ কিছু বলতে চাইলে তিনি আসন ছেড়ে নিজ অফিস কক্ষে চলে যান এবং আপিলের পরামর্শ দেন।
এ সময় হল রুমের ভিতর এবং অফিসের বাইরে অপেক্ষায় থাকা জামায়াতের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা হট্টগোল করেন।
জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী জানান, “তিনি কারো দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মনোনয়ন পত্রটি বাতিল করেছেন। আমাদের কোন কথা শোনেনি এবং আমার কোন কাগজপত্র দেখতেও চাননি। আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করবো।”
রিটার্নিং কর্মকর্তা অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, “নির্বাচনি নীতিমালা ও আইনের মধ্যে থেকে মনোনয়ন পত্র যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। এখানে পক্ষপাতিত্ব কিংবা প্রভাবিত হওয়ার সুযোগ নেই। সংক্ষুব্ধ পক্ষ আপীল করতে পারবেন।”