কনসার্ট নিয়ে আপত্তির পরও নবীনবরণে গানে মাতল ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজ
প্রায় চার বছর পর নবীনবরণ হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল উচ্ছ্বাস।
কনসার্ট নিয়ে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের আপত্তির পরও শেষ পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে।
সোমবার বিকালে কলেজের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে ব্যান্ড দল ‘হাইওয়ে’র গানে মাতেন শিক্ষার্থীরা।
দুপুর পৌনে ১২টার দিকে কলেজের মূল ক্যাম্পাস-সংলগ্ন নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে নবীনবরণ শুরু হয়। পরে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে দক্ষিণ ক্যাম্পাসে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
শুরুতে স্থানীয় শিল্পীরা গান করেন। পরে মঞ্চে ওঠেন ‘হাইওয়ে’র হাসান ইথার ও তার দলের সদস্যরা। তাদের গনে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন শিক্ষার্থীরা। তিনটি গানের পর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে আসরের নামাজের জন্য বিরতি দেওয়া হয়। বিরতির পর আবারও সুরের জাদুতে মাতান হাসান ইথার। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে অনুষ্ঠান শেষ হয়।
অনুষ্ঠান ঘিরে কলেজের প্রধান ক্যাম্পাস, কলেজপাড়ার সড়ক ও দক্ষিণ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ভিড় ছিল। কলেজের অর্থনীতি বিভাগের পরিত্যক্ত ভবনের ছাদেও অনেকে অবস্থান নেন। আশপাশের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরাও অনুষ্ঠান দেখতে আসেন।
প্রায় চার বছর পর নবীনবরণ হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল উচ্ছ্বাস। তারা বলেন, গত তিন দিন নানা আলোচনায় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হওয়ায় তারা আনন্দিত। এ জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য, কলেজ কর্তৃপক্ষ ও কলেজ শাখা ছাত্রদলকে ধন্যবাদ জানান শিক্ষার্থীরা।
কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক নাঈম ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, মূল মাঠের পরিবর্তে দক্ষিণ ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে। দীর্ঘদিন পর শিক্ষার্থীরা আনন্দ করার সুযোগ পেয়েছেন।
নবীনবরণে কনসার্ট নিয়ে আপত্তি জানিয়ে শনিবার কলেজ অধ্যক্ষের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছিল জেলা কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটি কনসার্ট স্থগিতের দাবি জানায়।
একই দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামের কাছেও স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে যথাসময়ে অনুষ্ঠান করার ঘোষণা দেয় কলেজ শাখা ছাত্রদল। শনিবার রাতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে কলেজ ছাত্রদল ও কওমি ছাত্র ঐক্যের নেতাদের বৈঠক হয়। পরে মূল মাঠের পরিবর্তে দক্ষিণ ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত হয়।
নবীনবরণ অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। কলেজ অধ্যক্ষ এ কে এম ওবায়দুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির নেতারা ও জেলা পরিষদের প্রশাসক উপস্থিত ছিলেন।
২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক শ্রেণির নবীনবরণ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি করে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
