Published : 11 Aug 2025, 07:34 PM
গাজীপুরের সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনের মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেয়েছে পুলিশ।
সোমবার গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, রোববার রাতে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পুলিশের কাছে দিয়েছে।
প্রতিবেদনে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তুহিনের মৃত্যু হয়েছে জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “ময়নাতদন্তে নিহত ব্যক্তির গলা, ঘাড়, বুক, পিঠ ও হাতে ধারালো অস্ত্রের কোপে গুরুতর নয়টি গভীর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।”
“কোন ভিকটিমের মৃত্যু কিসে হয়েছে, কীভাবে হয়েছে তা আদালতকে জানতে হয়। তাই ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রয়োজন পড়ে। এখন পুলিশের প্রমাণ করতে হবে, ওই ধারালো অস্ত্র দিয়ে সাংবাদিক তুহিন হত্যাকাণ্ড কীভাবে, কখন, কারা এবং কেন করেছে।”
বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর ব্যস্ততম চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয় সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে (৩৮)। এ ঘটনায় মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তুহিন দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ পত্রিকার গাজীপুরের স্টাফ রিপোর্টার ছিলেন। তিনি ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া থানার ভাটিপাড়া গ্রামের হাসান জামালের ছেলে। তিনি স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
এ ঘটনায় নগরীর বাসন থানায় দুটি মামলা হয়েছে। একটি মামলার বাদী হয়েছেন তুহিনের বড় ভাই মো. সেলিম। অপর একটি মামলার বাদী, তুহিন হত্যার আগে সংগঠিত আরেকটি হামলার ঘটনায় আহত বাদশা মিয়ার ভাই। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।
শুক্রবার সকালে নিহত সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনের মরদেহের ময়নাতদন্ত গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে সম্পন্ন হয়েছে। পরে ময়মনসিংহে গ্রামের বাড়িতে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হচ্ছেন- ফয়সাল ওরফে কেটু মিজান (যাকে হত্যাকাণ্ডের হোতা বলছে পুলিশ), তার স্ত্রী গোলাপী, সুমন, আল আমিন, স্বাধীন, মো. শাহ জালাল (৩২), শহীদুল ইসলাম (৩০) এবং মো. ফয়সাল হাসান (২৩)।