Published : 06 Apr 2026, 06:06 PM
হামের উপসর্গ নিয়ে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে শিশুটির মৃত্যুতে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। এ নিয়ে চার দিনে সাত শিশুর মৃত্যুর তথ্য দিলেন চিকিৎসকেরা।
সোমবার বিকালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায় বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়া জেলা সিভিল সার্জন শেখ মোহাম্মদ কামাল।
তিনি বলেন, মারা যাওয়া সাত শিশুর মধ্যে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চারজন, ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে একজন এবং সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে রাজশাহী মেডিকেলে গিয়ে মারা যাওয়া দুই শিশু রয়েছে। শুক্রবার থেকে রোববারের মধ্যে হামের উপসর্গে নিয়ে এসব শিশু হাসপাতাল ভর্তি হয়েছিল।
এদিন বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া ছয় মাস বয়সী মো. রায়হান সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর গ্রামের সোহাগ গাজীর ছেলে।
শিশুটির বাবা সোহাগ বলেন, দুই দিন ধরে বাচ্চার ঠান্ডা-জ্বর ও সর্দি হওয়ায় বাড়িতে রেখে চিকিৎসা চলছিল। রোববার হঠাৎ বাচ্চার শরীর লালচে হয়ে উঠে। সেইসঙ্গে শ্বাসকষ্টও বেড়ে যায়। এ অবস্থায় তাকে দ্রুত কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করা হয়।
সোহাগের অভিযোগ, “হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে বাচ্চাটিকে নার্সরা দেখছিলেন। কিন্তু কোনো বড় ডাক্তারকে ডেকেও পাইনি। বাচ্চার খুব টান ওঠে, কি যে কষ্ট হচ্ছিল, তা বোঝাতে পারব না।
“ভয় ও আতঙ্কে বড় ডাক্তার আসার অপেক্ষা করছিলাম। পরে বিকালে বাচ্চাটা ছটফট করতে করতে মারা গেলেও ডাক্তার আর আসেনি। হাসপাতালে জীবিত বাচ্চা নিয়ে এসে লাশ নিয়ে বাড়ি যাচ্ছি।”
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডের দায়িত্বরত সেবিকা শরিফা বেগম বলেন, “শিশুটি হাসপাতালে আনার সময়ই খুব ক্রিটিক্যাল অবস্থায় ছিল। উন্নত চিকিৎসা ও আইসিইউ বা ভেন্টিলেশন সাপোর্টের জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরিবার কোথাও ম্যানেজ করতে পারিনি। পরে শিশুটি মারা যায়।”
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক এ এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া যেসব শিশুর ভেন্টিলেশন সার্পোটের প্রয়োজন তাদের ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সিভিল সার্জন শেখ মোহাম্মদ কামাল বলেন, গেল ১০ দিনে সদর ও কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ছয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঠান্ডা, জ্বর, সর্দি ও কাশিজনিত জটিলতা নিয়ে ৩৪৭ শিশু ভর্তি হয়েছে। এখন পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে ১৭২ জন।
এ ছাড়া ২৪ ঘণ্টায় এসব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৯ শিশু ভর্তি হয়েছে বলে জানান তিনি।