২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬ আশ্বিন ১৪৩৩

তিস্তা বাঁচাতে ৫ জেলায় একসঙ্গে ‘মশাল প্রজ্বালন’

লালমনিরহাট, রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার ১১টি স্থানে একযোগে একই সময়ে মশাল প্রজ্বালনের এ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 16 Oct 2025, 09:33 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:29 PM

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে আবারও আন্দোলনে নেমেছে উত্তরাঞ্চল। ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই’ আন্দোলনের অংশ হিসাবে এবার রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলায় একযোগে মশাল প্রজ্বালন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লালমনিরহাট, রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার ১১টি স্থানে একই সময়ে মশাল প্রজ্বালনের এ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

লালমনিরহাটে তিস্তা সেতুর নীচের বাঁধের এলাকা থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক, সাবেক উপমন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু। 

এসময় তিনি বলেন, “তিস্তা শুধু উত্তরাঞ্চলের নয়, বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণ। অবিলম্বে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করতে হবে। জনগণ এখন তিস্তার ন্যায্য অধিকার আদায়ে রাস্তায় নেমেছে।”

দুলু বলেন, “তিস্তা সমস্যা কোনো স্থানীয় ইস্যু নয়- এটি একটি জাতীয় সমস্যা। দীর্ঘ ষোল বছর এক ধরনের ফ্যাসিবাদী শাসন রংপুরের মানুষের বুকের ভিতরে জগদ্দল পাথরের মত বসিয়ে দিয়েছে, তবুও আমাদের কান্না থামেনি।” 

তিনি অভিযোগ করেন, “তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে এবং সরকারের ধীরগতির কারণে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হওয়ার আশঙ্কা আছে।”

তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিরোধীদের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিপক্ষে যারা দাঁড়াবে, তারা জাতীয় শত্রুতে পরিণত হবেন।” 

সরকারকে নভেম্বরের মধ্যেই মহাপরিকল্পনার কাজ বাস্তবায়ন শুরু করার অনুরোধ জানিয়ে দুলু বলেন, “যদি সময়মতো কাজ শুরু না করা হয়, তাহলে মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের মাধ্যমে রংপুর অঞ্চলকে অচল করে দেয়া হবে।”

মশাল প্রজ্বালন কর্মসূচিতে অংশ নেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, ছাত্র ও যুব সমাজের নেতাকর্মীরা। তাদের স্লোগান ছিল— “জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই, তিস্তার ন্যায্য হিস্যা চাই।”

স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিনের অবহেলায় নীলফামারী, রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলা ভেদ করে বয়ে যাওয়া ১৩০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের তিস্তার বুকে জেগে উঠছে অসংখ্য চর, ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি। ফলে প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন লাখো মানুষ।

এমন পরিপ্রেক্ষিতে তিস্তা নদী রক্ষায় চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনের তীব্রতা বেড়েই চলেছে। এর আগে তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের পক্ষ থেকে লালমনিরহাটে গণমিছিল, গণসমাবেশ, পদযাত্রা ও স্মারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়।