নওগাঁয় এক শিশুকে ‘ধর্ষণ’ ও অপর শিশুকে ‘ধর্ষণের চেষ্টা’, বৃদ্ধ গ্রেপ্তার
প্রচণ্ড ব্যাথা নিয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকের সন্দেহ হলে তার জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটি সব কিছু খুলে বলে।
নওগাঁয় ১০ বছরের এক শিশুকন্যাকে ‘ধর্ষণ’ এবং আট বছর বয়সী আরেক শিশুকে ‘ধর্ষণ চেষ্টার‘ অভিযোগে এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে বদলগাছী উপজেলা সদর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নওগাঁ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
গ্রেপ্তার আব্দুস সাত্তার (৬০) বদলগাছী উপজেলার বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী শিশুটির প্রতিবেশী সম্পর্কের নানা হন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুটির বাবার করা ধর্ষণ মামলায় তিনি একমাত্র আসামি।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ১০ বছর বয়সী শিশুটি স্থানীয় স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ১১ এপ্রিল কাজের সন্ধানে তার বাবা অন্য জেলায় ছিলেন আর দুপুরের দিকে মাও বাড়িতে ছিলেন না।
এ অবস্থায় আব্দুস সাত্তার তাদের বাড়িতে যান।পরে তিনি বিস্কুট ও আইসক্রিম খাওয়ানোর কথা বলে ওই শিশু ও তার খেলার সাথী ৮ বছর বয়সী শিশুকে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তিনি স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ এবং অপর শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।
এরপর ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য সাত্তার দুই শিশুকে ভয়ভীতি দেখান। ফলে শিশুরা বিষয়টি কাউকে জানায়নি।
কিন্তু ঘটনার পরদিন থেকে ধর্ষণের শিকার শিশুটি তলপেটে ব্যথা অনুভব করে। শুক্রবার তার অবস্থা আরও খারাপ হলে পরিবারের লোকজন তাকে নওগাঁ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসকের সন্দেহ হলে তার জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটি সব কিছু খুলে বলে। পরে আরেক শিশুও তার মাকে ঘটনার কথা জানিয়েছে।
শিশুটির চিকিৎসক আশা বলেন, প্রচণ্ড ব্যাথা নিয়ে শিশুটিকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। চিকিৎসার পর শিশুটা কিছুটা সুস্থ আছে। তার প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।
পরে রাতেই শিশুর বাবা বাদি হয়ে আব্দুস সাত্তারকে আসামি করে বদলগাছী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় নওগাঁ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপন শিশুটিকে দেখতে হাসপাতালে যান এবং শিশুটির চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন। তিনি শিশুটির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এদিন দুপুরে বদলগাছী থানার ওসি রুহুল আমিন বলেন, ধর্ষণ মামলার আসামি আব্দুস সাত্তারকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
