নওগাঁয় ‘ধর্ষণচেষ্টায়’ সালিশ, ইউপি সদস্যসহ গ্রেপ্তার ২

সালিশে আদায় করা ৫০,০০০ টাকা ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিন রেখে দিয়েছেন বলে ভুক্তভোগী নারীর ভাষ্য।

নওগাঁ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 Sept 2022, 06:04 PM
Updated : 22 Sept 2022, 06:04 PM

নওগাঁর মান্দা উপজেলায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে সালিশ বসিয়ে জরিমানা আদায় করায় ইউপি সদস্যসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূর করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়; বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করলে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন- উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিন মোল্লা (৬৭) ও নলতৈড় গ্রামের যুবক হোসেন আলী ওরফে আলতাফ হোসেন (৩০)।

আলতাফের বিরুদ্ধে গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীর মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী নারী বলেন, “গত মঙ্গলবার রাতে প্রতিবেশী যুবক হোসেন আলী কৌশলে আমার ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় আমার স্বামী বাড়িতে ছিলেন না। এ সুযোগে হোসেন আলী আমাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় আমার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন তাকে আটক করে।”

গৃহবধূ অভিযোগ, “বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বুধবার স্থানীয় ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিন মোল্লার বাড়িতে সালিশ ডাকা হয়। সালিশে হোসেন আলীর ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেন মাতবরেরা। হোসেন আলীর পরিবার তাৎক্ষণিক ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করে।”

তবে পুরো টাকাই ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিন রেখে দিয়েছেন বলে এই নারীর ভাষ্য।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিচারের রায়ের টাকা আদায় করতে ওই গৃহবধূ ও হোসেন আলীকে দিনভর মেম্বার নাজিম উদ্দিনের বাড়িতে আটক করে রাখা হয়। পরে যুবক হোসেন আলীর পরিবার ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করলে তাদের ছেড়ে দেন মাতবরেরা।

সালিসের সভাপতি ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিন মোল্লা বলেন, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে অভিযোগে অভিযুক্ত হোসেন আলী ও গৃহবধূর বিচার করা হয়েছে।

“সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জরিমানার ৬০ হাজার টাকার মধ্যে তাৎক্ষণিক ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করে অভিযুক্তের পরিবার। আদায়কৃত পুরো টাকাই সালিসের খরচ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।”

মান্দা থানার ওসি শাহিনুর রহমান বলেন, “ধর্ষণচেষ্টার বিষয়ে সালিশ ও জরিমানা আদায়ের ঘটনার ভুক্তভোগী গৃহবধূ মামলা করেন। মামলায় ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিন ও অভিযুক্ত হোসেন আলীকে গ্রেপ্তারসহ জরিমানার ৪০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার দুইজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক