Published : 15 Aug 2026, 07:36 PM
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মাদক কারবারিদের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনায় পুলিশ সদস্যসহ চারজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার বেলা ৩টার দিকে নগরীর ইসদাইর রেললাইন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুব আলম।
আটকরা হলেন- ইসদাইর এলাকার রাজ্জাকের ছেলে জসিম (২৪) এবং আব্দুস সালামের মোহন (২৩)। এর মধ্যে জসিমের পায়ে গুলি লেগেছে। তাকে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তার কাছ থেকে একটি গুলিভর্তি পিস্তলও জব্দ করেছে পুলিশ।
অন্যদিকে, মাদক ব্যবসায়ীদের ছোড়া ইট-পাটকেল ও তাদের ধরতে দৌড়াদৌড়ির সময় ফতুল্লা থানার এসআই মো. রফিক ও বন্ধন চন্দ্র সরকার এবং কনস্টেবল রাশেদুল আহত হয়েছেন। তাদেরও একই হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক অপু কুমার সাহা বলেন, বেলা পৌনে ৪টার দিকে জসিমকে হাসপাতালে আনা হয়। তার পায়ে দুটি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আঘাত দুটি গুলির বলে জানানো হয়েছে। গুলি ভেতরে আছে কিনা জানার জন্য এক্স-রে করতে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, মাদক কারবারিদের একটি দল এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অস্ত্রশস্ত্রসহ ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেললাইনের ইসদাইর এলাকায় অবস্থান নিয়ে গোলাগুলি করছে- এমন খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালায় ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। পুলিশকে দেখেই মাদক কারবারিরা গুলি ছুড়ে এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব বলেন, “পরিস্থিতি সামাল দিতে আত্মরক্ষার্থে পুলিশও গুলি করে। পরে ধাওয়া দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করা হয়।”
পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইসদাইরে মাদক ব্যবসা ও কিশোর অপরাধী দলকে নিয়ন্ত্রণ করেন রাজ্জাক এবং তার দুই ছেলে জসিম ও ওয়াসিম। গত এপ্রিলে মাদকবিরোধী অভিযানে ৫৩ রাউন্ড গুলিসহ রাজ্জাক ও তার ছোট ছেলে মো. ওয়াসিম (২২) গ্রেপ্তার হন। তার কয়েকদিন আগে ঢাকা বিমানবন্দর এলাকা থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ জসিমকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
কয়েক দিন আগে বাবা ও ছেলে তিনজনই জামিনে বেরিয়ে আসেন এবং এলাকার আধিপত্য নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা শুরু করেন। এ নিয়ে এলাকার অপর মাদক কারবারি শাকিলের সঙ্গে বিরোধ চলছিল বলেও জানান একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা।
এর জেরে ৭ অগাস্ট মাদক কারবারিদের দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় চারজন বাসিন্দা জানান।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, “পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। ইসদাইর এলাকার মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তারেও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”