সাংবাদিক সৈকত রঞ্জনের মুক্তি দাবিতে রাঙামাটিতে মানববন্ধন
দুই দিন আগে ঢাকা মহানগর পুলিশের একটি দল রাঙামাটি জেলা পরিষদের গেইটের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।
রাঙামাটি সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও ডিবিসি নিউজ টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি সৈকত রঞ্জন চৌধুরীর মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে রাঙামাটিতে কর্মরত সাংবাদিকদের ব্যানারে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রাঙামাটি জেলা কমিটির সম্পাদক এম জিসান বখতিয়ার বলেন, সৈকত রঞ্জন শুধু একজন সংবাদকর্মী নয়, তিনি সাংবাদিকতার পাশাপাশি সমাজকর্মী ও ক্রীড়া সংগঠনের সঙ্গেও সম্পৃক্ত। রাঙামাটি মানুষের সকলের পরিচিত মুখ।
তাকে হঠাৎ করে তুলে নেওয়ার ঘটনায় রাঙামাটিবাসী তীব্র নিন্দা জানায়। তাকে নিঃশর্ত মুক্তি দিয়ে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান জিসান বখতিয়ার।
রাঙামাটি রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সুশীল প্রসাদ চাকমা বলেন, “সৈকত যদি সত্যিকার অর্থে অপরাধ করে থাকে, সে যথাযথ আইনের মাধ্যমে শাস্তি পাবে। সেটা আমরা মেনে নেব। কিন্তু হঠাৎ করে তাকে তুলে নেওয়া হলো আমরা কেউ জানতে পারলাম না তা তো হতে পারে না।
“আমরা চাই সৈকতকে দ্রুত মুক্তি দিয়ে তার কর্মস্থলে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। অন্যথায় আমরা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হব।”
রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সভাপতি আনোয়ার আল হকের সভাপতিত্বে এতে কমিউনিস্ট পার্টি রাঙামাটি জেলার সভাপতি সমির কান্তি দে, জেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ইলিয়াস, চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সোহাগ আরেফিন, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী রাঙামাটি জেলার সহসভাপতি আশীষ কুমার বড়ুয়া, যুব ইউনিয়ন জেলা কমিটির সভাপতি মিল্টন বিশ্বাস, বড়ুয়া জনকল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সনৎ কান্তি বড়ুয়া, রাঙামাটি সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি নন্দন দেবনাথ, রাঙামাটি রিপোর্টার্স ইউনিটির যুগ্ম সম্পাদক হিমেল চাকমা, রাঙামাটি সাংবাদিক সমিতির অর্থ সম্পাদক প্রান্ত রনি এবং নানিয়ারচর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মেহেরাজ সুজন বক্তব্য দেন।
রাঙামাটি সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিশু দের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ রাঙামাটি জেলা ইউনিট ও বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ সংহতি জানিয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের একটি দল রাঙামাটি জেলা পরিষদের গেইটের সামনে থেকে সৈকতকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।
ওই দিন রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, “শাহবাগ থানায় পর্ণগ্রাফি আইনে একটা মামলা হয়েছে। সেই মামলায় উনাকে ডিএমপি গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে। রাঙামাটিতে উনার নামে কোনো মামলা নেই।”
