১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ভারি বর্ষণ-ঢলে শেরপুরের ৩ উপজেলায় বন্যার শঙ্কা, জলাবদ্ধতা

নালিতাবাড়ীর চেল্লাখালি নদীর পানি বাতকুচি পয়েন্টে বিপৎসীমার ১২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ভারি বর্ষণ-ঢলে শেরপুরের ৩ উপজেলায় বন্যার শঙ্কা, জলাবদ্ধতা
বৃষ্টির পানি ও ঢলের কারণে ঝিনাইগাতী-ভায়াডাঙ্গা সড়কের করারগাঁও বটতলা বাজারের রাস্তায় জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

শেরপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 May 2025, 05:51 PM

Updated : 10 Sep 2026, 12:42 PM

কয়েক দিন ধরে থেমে থেমে ভারি বৃষ্টি এবং মেঘালয়-আসাম থেকে আসা ঢলের কারণে শেরপুরের সীমান্তবর্তী তিন উপজেলায় বন্যার আশঙ্কায় মানুষকে সতর্ক করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছে। 

এ অবস্থায় উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার মানুষ। 

এদিকে পাহাড়ি নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেলেও তা এখনও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

শুধু নালিতাবাড়ীর চেল্লাখালি নদীর পানি বাতকুচি পয়েন্টে বিপৎসীমার ১২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড-পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখিনুজ্জামান জানান।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় শেরপুর পয়েন্টে ৬৭ মিলিমিটার, নালিতাবাড়ী পয়েন্টে ১২৫ মিলিমিটার ও নাকুগাঁও পয়েন্টে ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।  

ভোগাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও নালিতাবাড়ী পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৩১ সেন্টিমিটার এবং নাকুগাঁও পয়েন্টে ১৮৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পুরনো ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বেড়ে বিপৎসীমার ৬৬৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, “নদীর পানি বাড়লেও কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি। আগামী দুই দিন আরও বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেজন্য আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বৃষ্টি না হলে আগামী ছয়-সাত ঘণ্টার মধ্যে নদীর পানি নেমে যাবে।” 

ঝিনাইগাতীর মহারশি ও সোমেশ্বরী নদীতে মিটার গেজ না থাকায় পানির পরিমাপ জানা সম্ভব হয়নি। তবে স্থানীয়রা বলছেন, দুই নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও এখনও বিপদের কিছু দেখছেন না তারা। 

স্থানীয় প্রশাসনের বন্যার সতর্কবার্তার কারণে সীমান্তবর্তী নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতী উপজেলার অধিকাংশ জমির বোরো ধান কাটা এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। সোমবার পর্যন্ত জেলার ৯৪ ভাগ জমির বোরো ধান কাটা শেষ হয়েছে বলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। 

এদিকে স্থানীয়রা জানান, গত বছর অতি বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলের কারণে ফসল, ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় এবারও বন্যার আশঙ্কায় স্থানীয়রা বেশ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন।  

বৃষ্টির পানি ও ঢলের কারণে ঝিনাইগাতী-ভায়াডাঙ্গা সড়কের করারগাঁও বটতলা বাজারের রাস্তায় জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। 

ঝিনাইগাতীতে নির্মাণাধীন চাপাতলী সেতুর উভয় পাশের রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় বাগেরভিটা এলাকায় কয়েকটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

ঝিনাইগাতী নয়াগাঁও মাজার সংলগ্ন কবরস্থান এলাকায় পাগলা নদীর পানিতে রাস্তায় জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।  

এ ছাড়া বাঁকাকুড়া ও ফুলহারির মধ্যবর্তী এলাকায় পাহাড়ি ঝর্ণার পানি উপচে গিয়ে পাশের জমিতে প্রবেশ করতে শুরু করেছে। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সোমবার পর্যন্ত সর্বশেষ জেলার ৯৪ ভাগ বোরো ধান কাটা শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার থেমে থেমে বৃষ্টির হওয়ার কারণে ধান কাটা সম্ভব না হওয়ায় ঝিনাইগাতী আড়াই হেক্টর এবং শ্রীবরদী উপজেলায় সাড়ে নয় হেক্টর জমির বোরো ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

“বৃষ্টির কারণে জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এটাকে এখনও বন্যা বলা যাবে না। কয়েক ঘণ্টার মধ্য পানি নেমে গেলে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে।”

ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, “বৃষ্টি ও উজানের পানিতে নদ-নদীর পানি বেড়েছে। তবে এখনও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সম্ভাব্য বন্যা মোকাবেলায় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সবাইকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”

শেরপুরের জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেন, “বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা প্রতিটি উপজেলায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরি করছি। পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হচ্ছে এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকেও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোও বন্যা মোকাবিলায় সক্রিয়ভাবে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।”