১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নীলফামারীতে ডিসি-এসপি অফিস ঘেরাওয়ের পর শ্রমিকের জামিন

পুলিশ সুপার বলেন, “আশা করি, বৃহস্পতিবার থেকে উত্তরা ইপিজেডে আর কোনো বিশৃঙ্খলা থাকবে না। সুন্দরভাবে ইপিজেড পরিচালনা হবে।”

নীলফামারী প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Sep 2025, 08:04 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:19 PM

গ্রেপ্তার উত্তরা ইপিজেডের শ্রমিক ও তার বাবার মুক্তির দাবিতে নীলফামারীতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে বিক্ষুব্ধ সহকর্মীরা। 

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এভারগ্রিন প্রোডাক্টস বিডি লিমিটেডের কয়েকশ বিক্ষুদ্ধ শ্রমিক ডিসি অফিস-সার্কিট হাউজ সড়ক অবরোধ করেন। পরে তারা পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করে দুজনের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান। 

এরপর শ্রমিক ছাইদুল ইসলাম সাইফুল ও তার বাবা শফিকুল ইসলামকে আদালত জামিন দেন। তাদের মুক্তির দুই ঘণ্টা পর শ্রমিকরা সড়ক ছেড়ে যায়। তারপর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।  

মামলার বরাতে পুলিশ জানায়, ১২ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে স্ত্রীকে আনতে গিয়ে নিখোঁজ হন ইপিজেডের এভারগ্রিন প্রোডাক্ট বিডি লিমিটেডের শ্রমিক ছাইদুল ইসলাম সাইফুল। ওই দিনই তার বাবা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। 

পরদিন ১৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে সৈয়দপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে সাইফুলকে কর্দমাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। তখন জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে পুলিশ জানায়, শ্রমিক অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে মালিকপক্ষের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য আত্মগোপনে ছিলেন সাইফুল। 

পরে ডিবি পুলিশ সাইফুল ও তার বাবা শফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। এবং মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠায়।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বুধবার সকাল থেকেই এভারগ্রিন কারখানার শ্রমিকরা ইপিজেডের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ডিসি অফিসের সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। দুই ঘণ্টা পর দুপুর দেড়টায় শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এরপর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক হয়। সেখানে বৃহস্পতিবার থেকে শ্রমিকরা কাজে ফিরতে সম্মত হন।

বৈঠক শেষে পুলিশ সুপার এ এফ এম তারিক হোসেন খান বলেন, “সাইফুল সবার সামনেই স্বীকার করেছেন যে, তিনি নিজেই আত্মগোপনের মাধ্যমে আজকের এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন। আমরা শ্রমিকদের প্রতি সহনশীল হয়ে তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সাইফুল ও তার বাবার জামিনের ব্যবস্থা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছি। 

“আশা করি, বৃহস্পতিবার থেকে উত্তরা ইপিজেডে আর কোনো বিশৃঙ্খলা থাকবে না। সুন্দরভাবে ইপিজেড পরিচালনা হবে।”

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, “শ্রমিকদের প্রধান দাবি ছিল, সাইফুল ও তার বাবার নামে যে মামলা হয়েছে সেটি থেকে তাকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া। শ্রমিকদের আরও কিছু দাবি ছিল। বৈঠকে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ইপিজেডে শ্রমিকদের স্বার্থ ও দাবি রক্ষায় আগামী সাত দিনের মধ্যে কারখানা শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে পিসি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

তিনি বলেন, “আমরা শ্রমিকদের আশ্বস্ত করেছি, এরপর কোনো সমস্যা হলে আমাদের জানাতে। আমরা ইপিজেড ও কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তা সমাধানের চেষ্টা করব।”