Published : 12 Jan 2026, 10:12 AM
ভোটারদের সমর্থন পেলে সরাইল-আশুগঞ্জ উপজেলাকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার আশ্বাস দিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কাজ করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মতামতের ভিত্তিতেই তিনি নির্বাচনি মাঠে নেমেছেন।
রোববার বিকালে সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের ধরন্তী গ্রামে এক উঠান বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
বৈঠকের শুরুতে গ্রামের সমর্থকেরা রুমিন ফারহানাকে ফুলের মালা পরিয়ে বরণ করে নেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, “২০১৭ সাল থেকে আমি আপনাদের পাশে কাজ করছি। তখন বিএনপি আমাকে আমার বাবার এলাকায় কাজ করার দায়িত্ব ও আশ্বাস দিয়েছিল। আমি সেই নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছি। কিন্তু যখন এই আসনে জোটের প্রার্থী দেওয়া হলো, আমি প্রতিটি ইউনিয়নের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মতামত নিয়েছি।
“তারা আমাকে নির্দিধায় বলেছেন, আপনাকে নির্বাচন করতে হবে। সুতরাং আমার এই লড়াই একক সিদ্ধান্ত নয়। বরং ৯-১০ বছর ধরে আমার সঙ্গে কাজ করা কর্মী-সমর্থক ও এলাকাবাসীর যৌথ সিদ্ধান্ত।”
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা যদি আমাকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করেন, আমি সরাইল-আশুগঞ্জকে মডেল উপজেলায় রূপান্তর করব।”
এমপি হলে নিজে সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে চিকিৎসা নেবেন বলেও জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা।
তিনি বলেন, “সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে ডাক্তার থাকে না, বিনামূল্যে ওষুধ মেলে না, পরীক্ষার যন্ত্রপাতি ঠিক থাকে না। যদি কোনো এমপি সেখানে চিকিৎসা নিত তাহলে এসব কেন্দ্রের মান নিজ থেকেই বাড়তো। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের এমপিরা চিকিৎসা নেন লন্ডন-সিঙ্গাপুর-ব্যাংককে।
“আমি যদি এমপি হই, আমার চিকিৎসা শুরু হবে এই এলাকার সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকেই। তখন সেই কেন্দ্রের সবকিছু ঠিক থাকবে। আর না থাকলে সংসদে আমি কী করতে পারি তা আওয়ামী লীগের সময় আপনারা দেখেছেন।”
রুমিন ফারহানা বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় গত ডিসেম্বরে তাকে বহিষ্কার করা হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন।
একই আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব (খেজুরগাছ প্রতীক)।
নির্বাচনি হুমকি-ধমকি প্রসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “কেউ আমার কর্মীদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করলে বলি, তাদের আমার কর্মীর গায়ের পশম ধরার আগে আমাকে জবাব দিতে হবে।”