ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বালু উত্তোলনে বাধা দেয়ায় গ্রামবাসীর ওপর হামলা, গুলিবিদ্ধ ৫
নবীনগরের চরলাপাং গ্রামের পাশের মেঘনা নদীতে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র অর্ধ শতাধিক ড্রেজারের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে মেঘনা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়ায় গ্রামবাসীর ওপর হামলা হয়েছে। হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে পাঁচজনসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
রোববার সকালে উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের চরলাপাং গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) পিয়াস বসাক।
গুলিবিদ্ধ হওয়াদের মধ্যে নুরুল আমীন (৪০), রূপ মিয়া (৪৫), সফর মিয়া (৫০), সিয়াম হোসেন (১৬) ও ইব্রাহিম মিয়াকে (৩০) নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রুপ মিয়া ও নূরুল আমীনকে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
হাসপাতালের ভর্তি হওয়া আহত ও স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, চরলাপাং গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওযা মেঘনা নদীতে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র অবৈধভাবে অর্ধ শতাধিক ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এতে চরলাপাংসহ আশপাশের গ্রামগুলো নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে।
গ্রামবাসী বারবার এর প্রতিবাদ করেও এর কোনো প্রতিকার পায় নি। তবে অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাঝে মাঝে প্রশাসন অভিযান চালায়। এতে কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর আবারও নদী থেকে বালু উত্তোলন শুরু হয়।
এছাড়া ড্রেজারে থাকা অস্ত্রধারীরা চররাপাং গ্রামের জমি থেকে তাদের ফসল জোরপূর্বকভাবে কেটে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ আছে।
ভুক্তভোগীদের বরাতে নবীনগর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, “ফসলি জমির ধান কেটে নেওয়া ও বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় সকালে ২০/৩০ জন সন্ত্রাসী গ্রামবাসির উপর সশস্ত্র হামলা চালায়।”
এ সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে পাঁচ জন ও দৌড়াদৌড়িতে পাঁচ-ছয় জন আহত হন।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) পিয়াস বসাক বলেন, “খবর পেয়ে নবীনগর থানার ওসি সহ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। সন্ত্রাসীদের ধরতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।”
এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে নবীনগরের সংসদ সদস্য ও বিএনপির নেতা অ্যাডভোকেট এম এ মান্নান বলেন, “ঘটনার পরপরই আমি পুলিশকে বালু সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছি। এবার বালু সন্ত্রাসীদের কঠোর হাতে দমন করা হবে।”
