১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

‘রাজশাহী রেশমকে বিশ্ববাজারে নিতে চায় সরকার, নজর চীনে’

‘রাজশাহী সিল্ক’ আন্তর্জাতিক বাজারে পরিচিত করতে গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও উৎপাদনের মান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

রাজশাহী প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Aug 2026, 10:28 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:30 PM

রাজশাহীর রেশমশিল্পকে বিশ্ববাজারে নিতে চায় সরকার। এ ক্ষেত্রে চীনের বাজারকে সম্ভাবনাময় হিসেবে দেখা হচ্ছে। রেশমের উৎপাদন ও মান বাড়াতে গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার সকালে রাজশাহীতে বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে চীন-বাংলাদেশের সহযোগিতায় রেশম চাষ, গবেষণা ও উন্নয়নবিষয়ক সম্মেলনে এসব কথা বলেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ রেশম কারখানা ও রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজশাহীর রেশম দেশের ঐতিহ্য ও গর্বের অংশ। এই শিল্পকে আবারও শক্তিশালী করতে আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা ও প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রেশম চাষের পদ্ধতি উন্নত করা, তুঁত চাষ বাড়ানো এবং রেশম সুতার মান উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চীনের বাজার সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চীন বিশ্বের অন্যতম বড় রেশম উৎপাদক ও ব্যবহারকারী দেশ। সেখানে বাংলাদেশি রেশমের বাজার তৈরি করা গেলে রাজশাহীর রেশমচাষি, তাঁতি ও উদ্যোক্তারা লাভবান হবেন।

তিনি বলেন, ভালো মানের রেশম সুতা ও কাপড় উৎপাদনের পাশাপাশি আধুনিক নকশা, মোড়ক, ব্র্যান্ডিং ও বিপণনের দিকে নজর দিতে হবে। এতে ‘রাজশাহী সিল্ক’ আন্তর্জাতিক বাজারে পরিচিত ব্র্যান্ড হতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পকারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাজার বাড়ানো ও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনা রয়েছে। রাজশাহীর রেশমশিল্পের জন্য বিপণন নীতিও আধুনিক করা হচ্ছে।

সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ‘রাজশাহী সিল্ক বোর্ড’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। পরে এ শিল্পের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়। এখন গবেষণা ও নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে রেশমশিল্পকে আরও আধুনিক করার কাজ চলছে।

রাজশাহী রেশম কারখানার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে পুনরায় চালুর পর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত কারখানাটিতে ৫৯ হাজার ৪৬৮ মিটার রেশম কাপড় উৎপাদন হয়েছে। কারখানার নিজস্ব বিক্রয়কেন্দ্রে গরদ শাড়ি, ছাপা শাড়ি, পাঞ্জাবির কাপড় ও বলাকা সিল্কসহ বিভিন্ন রেশমপণ্য বিক্রি হচ্ছে।

সম্মেলনে বক্তারা বলেন, গবেষণার ফল মাঠপর্যায়ে কাজে লাগাতে পারলে রেশমের উৎপাদন ও মান দুটোই বাড়ানো সম্ভব। এ জন্য উন্নত জাতের তুঁত ও রেশমকীট উৎপাদন, চাষিদের প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। চীনের সঙ্গে জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময় বাড়ানোর কথাও বলেন তারা।

সম্মেলনে অতিথি ছিলেন রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, চীনের বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক জু কিউজি এবং চীন-বাংলাদেশ রেশম গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান সমন্বয়কারী নুসরাত জাহান নিপা।

বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. তৌফিক আল মাহমুদের সভাপতিত্বে সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. শাখাওয়াত হোসেন। সম্মেলনের আয়োজন করে চীন-বাংলাদেশ রেশম গবেষণা কেন্দ্র। সহযোগিতা করে বাংলাদেশ রেশম চাষ উন্নয়ন বোর্ড।