১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

টেকনাফের পাহাড়ে ‘অস্ত্র তৈরির কারখানা’, গ্রেপ্তার ৬

ডাকাত দলটি অপহৃতদের স্বজনদের কাছে মোটা অংকের মুক্তিপণ দাবি করত। মুক্তিপণ না পেয়ে কয়েকজনকে হত্যাও করা হয়েছে বলে র‌্যাবের দাবি।

কক্সবাজার প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 19 Aug 2023, 07:10 PM

Updated : 19 Aug 2023, 07:20 PM

কক্সবাজারের টেকনাফের গহীন পাহাড়ে অস্ত্র তৈরির কারখানা ও ডাকাত দলের আস্তানা খুঁজে পাওয়ার কথা জানিয়েছে র‌্যাব- ১৫। সেখান থেকে বেশ কিছু আগ্নেয়াস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালীর পশ্চিমের গহীন পাহাড়ে এ অভিযান চালান হয় বলে র‌্যাব ১৫ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (আইন ও গণমাধ্যম) আবু সালাম চৌধুরী এক বার্তায় জানান।

যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তারা হলেন: রঙ্গিখালী এলাকার ফয়সাল উদ্দিন, পশ্চিম সাতঘরিয়াপাড়ার বদি আলম, দক্ষিণ আলীখালীর কবির আহামদ, পশ্চিম সাতঘরিয়াপাড়ার সৈয়দ হোসেন, পূর্ব সাতঘরিয়াপাড়ার দেলোয়ার হোসন এবং উলুছামারি কুনারপাড়ার মিজানুর রহমান।

সেখান থেকে দুটি একনলা বড় বন্দুক, চারটি এলজি, একটি অর্ধনির্মিত এলজি, শটগানের সাতটি কার্তুজ, রাইফেলের ১০টি কার্তুজ, একটি ড্রিল মেশিন, একটি আগুন জ্বালানোর মেশিন, দুটি লেদ মেশিন, দুটি বাটাল, একটি শান দেয়ার রেত, দুটিটি লোহার পাইপ, দুটি প্লাস, একটি কুপি বাতি এবং তিনটি স্মার্ট মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

র‌্যাবের বার্তায় বলা হয়েছে, অভিযানে যাওয়া র‌্যাব সদস্যদের ওপর গুলি করে পালিয়ে যেতে থাকে ডাকাত দল। তখন ধাওয়া করে ধরা হয় ফয়সালকে, যিনি এই বাহিনীর হোতা। তার দেওয়া তথ্যে পরে অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করে অন্যাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ফয়সালের নেতৃত্বে ডাকাতি, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়, ধর্ষণ, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা এবং হত্যাসহ নানা অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ আছে বলেও জানিয়েছে বাহিনীটি।

বাহিনীটি আরও জানায়, ফয়সাল তার সহযোগীদের মাধ্যমে সন্ত্রাসী চক্রের কাছে অস্ত্র সরবরাহ করতেন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে সন্ত্রাসী কার্যক্রম শেষে তারা পাহাড়ের আস্তানায় আত্মগোপনে চলে যেত তার দলটি।

এতে আরও বলা হয়, ডাকাত দলটি অপহৃতদের রঙ্গীখালির এই আস্তানায় বন্দি করে স্বজনদের কাছে মোটা অংকের মুক্তিপণ দাবি করত। টাকা আদায় করতে ভুক্তভোগীদের ওপর নির্যাতন চালাতো। মুক্তিপণ না পেয়ে কয়েকজনকে হত্যাও করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া বদি আলমের বিরুদ্ধে ১৪টি, ফয়সাল সৈয়দ হোসেন ও দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে তিনটি করে, কবিরের বিরুদ্ধে দুটি, মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছে র‌্যাব।

অস্ত্র জব্দের ঘটনায় নতুন করে করা মামলাতেও সবাইকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।