Published : 11 Aug 2026, 06:18 PM
নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে এক গৃহবধূর লাশ শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর গরু-ছাগল নিয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন স্বামীসহ পরিবারের সদস্যরা।
সোমবার রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়নের কয়ড়াপাড়া গ্রাম থেকে ওই নারীর লাশ উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন মোহনগঞ্জ থানার এসআই জসিম উদ্দিন।
লাশ উদ্ধার হওয়া মুন্নী আক্তার (২২) কয়ড়াপাড়া গ্রামের সোহাগ মিয়ার স্ত্রী এবং উপজেলার বড়কাশিয়া-বিরামপুর ইউনিয়নের সোনারামপুর গ্রামের ইদ্রিছ আলীর মেয়ে।
প্রায় তিন বছর আগে মুন্নীর সঙ্গে পারিবারিকভাবে সোহাগের বিয়ে হয়। তাদের কোনো সন্তান নেই।
মুন্নীর চাচাতো ভাই মো. মিঠু বলেন, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সোহাগের পরিবারের লোকজন তাদের ফোন করে মুন্নীর ফাঁস লেগেছে এবং মারা যেতে পারে বলে জানান। পরে তারা ওই বাড়িতে গিয়ে একটি কক্ষে বিছানার ওপর মুন্নীর লাশ পড়ে থাকতে দেখেন।
তবে মুন্নীর স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ পরিবারের সদস্যরা কেউ বাড়িতে ছিলেন না। এমনকি তারা বাড়ির গরু-ছাগলও নিয়ে গেছেন।
মিঠুর অভিযোগ, মুন্নীকে হত্যার পর তার লাশ ফাঁসিতে ঝোলানো হয় এবং পরে বিছানায় নামিয়ে রেখে ও মাথায় পানি ঢেলে বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সোহাগসহ তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হবে। লাশ দাফন শেষে থানায় অভিযোগ করা হবে বলেও জানান তিনি।
এসআই জসিম উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে রাত আড়াইটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মুন্নীর লাশ উদ্ধার করে। তার গলায় ফাঁসের দাগ রয়েছে। তবে শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নেত্রকোনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
জসিম আরও বলেন, স্থানীয়দের ধারণা, রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে ঘটনাটি ঘটতে পারে। লাশ ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামিয়ে শ্বশুর পরিবারের লোকজন মাথায় পানি ঢেলেছিলেন বলে জানা গেছে।
“তবে প্রকৃতপক্ষে কীভাবে মুন্নীর মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”
তিনি আরও বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো লিখিত কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি।