Published : 28 Jul 2026, 08:17 PM
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীকে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মারধরের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এদিকে হামলার ঘটনাকে ‘ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা’ জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলো।
ঘটনার দিন সোমবার রাতে প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. রেজাউল করিমকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রশাসন।
মঙ্গলবার সকালে সংঘর্ষের স্থান বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ও রাকসু ভবন পরিদর্শন করেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা।
পরিদর্শন শেষে অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম বলেন, “যেহেতু গতকালের ঘটনার পর লাইব্রেরির রিডিং রুম বন্ধ ছিল, আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে তাই এটি পরিদর্শন করেছি। যত ধরনের আলামত আছে আমরা সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিব।”
প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা সম্পর্কে তিনি বলেন, “নির্দিষ্ট সময় বেঁধে না দিলেও, আমাদেরকে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।”
এদিকে এ ঘটনার বিচার দাবি করেছে ছাত্রদল, ছাত্র ফেডারেশন ও বাম ছাত্রসংগঠনগুলোর জোট ‘গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট’।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, সোমবার সকালে এক নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তার একটি ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তরে ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট ছাত্রকে নিয়ে বৈঠকে বসেন প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান। এ সময় রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার ও এজিএস সালমান সাব্বির দপ্তরে উপস্থিত হন।
পরে তারা দুজন রোববার রাতে প্রক্টরের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে মো. আনাসকে প্রক্টর দপ্তরে ডাকেন। আনাস উপস্থিত হলে দুই পক্ষের কথা কাটাকাটির মাঝেই আনাসকে চড়-থাপ্পড় দেন জিএস ও এজিএস। এ সময় তাকে ‘ছাত্রলীগ কর্মী’ আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তারের দাবিও তোলেন রাকসুর এই দুই নেতা। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকায় প্রক্টর আনাসকে ছেড়ে দেন।
তবে ছাড়া পাওয়ার পর আনাস তার কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে রাকসু কার্যালয়ে হামলা করেন বলে দাবি করেন জিএস সালাউদ্দিন আম্মার।
পরে রাকসু এবং ছাত্র শিবির নেতারা তাদের ধাওয়া করলে তারা কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে আশ্রয় নেন। এ সময় রাকসুর জিএস আম্মার, এজিএস সালমান সাব্বির, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস শাকিব, বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ইমরান লস্কর, সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি ফাহিম রেজা ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র শিবিরের সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে তাদের উপর হামলা করা হয়। এ সময় রিডিং রুমে অবস্থান করা শিক্ষার্থীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদেরকেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে লাইব্রেরির পরিচালক এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আনাস ও তার সঙ্গী দুইজনকে উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দিতে গেলে জিএস আম্মারের নেতৃত্বে তাদের নামিয়ে ফের মারধর করা হয়।
রাতে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আনাস এবং সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসানকে ‘ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের’ আগের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:
হামলার শিকার রাবির সেই দুই শিক্ষার্থীকে ‘ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কার্যক্রম’ মামলায় গ্রেপ্তার
রাবিতে লাইব্রেরিতে ঢুকে ৩ শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ রাকসু ও শিবির নেতাদের বিরুদ্ধে