১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

মৃত্যুর গুজবে থানায় হামলা: ৩৪৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ১৮

গুজবকে কেন্দ্র করে দুই থেকে তিনশ নারী-পুরুষ আগৈলঝাড়া থানায় হামলা চালায় বলে পুলিশ জানায়।

বরিশাল প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 Jul 2026, 11:18 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:37 PM

চুরির মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশ সদস্যদের মারধরের ঘটনায় ৩৪৩ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার রাতে আগৈলঝাড়া থানার এসআই ওমর ফারুক মামলাটি করেন বলে জানিয়েছেন থানার ওসি মাসুদ খান। 

মামলার দুই সাংবাদিক ও পুলিশের এক কর্মকর্তার ছোট ভাইকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন- বাংলাটিভির বরিশাল ব্যুরো প্রধান ও আগৈলঝাড়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এফ এম নাজমুল রিপন, আগৈলঝাড়া প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও যুগান্তরের উপজেলা প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম এবং ডিএমপির রমনা জোনের ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার মাইনুল হকের ছোট ভাই রাসেল পাইক। 

নাজমুল রিপনকে ২১, সাইফুল ইসলামকে ২২ ও রাসেল পাইককে ২৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে। 

এ ছাড়া জেলা যুবলীগ নেতা সাগর সেরনিয়াবাতকে ২৪ এবং আগৈলঝাড়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আজাদ সেরনিয়াবতকে ২৫ নম্বর আসামি করা হয়েছে।  

ওসি বলেন, মামলার পর রাতে অভিযান চালিয়ে রিয়াজ ফকিরের বাবা সিদ্দিক ফকির, বোন শারমিন আক্তারসহ এজাহারভুক্ত ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়। বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে- সবুজ ফকির, মান্নান ফকির, রিফাত ফকির, নাইম ফকির, হাবিবুর রহমান, রাজু হাওলাদার, তাহমিনা বেগম, মনোয়ারা বেগম, আসমা আক্তার, মমতাজ বেগম, ঝুমুর বেগম, নাজমা আক্তার ও তানজিলা আক্তার রয়েছেন।

ওসি মাসুদ খান বলেন, মামলায় বেআইনি সমাবেশ, দাঙ্গা, সরকারি কাজে বাধা, পুলিশকে মারধর, হত্যাচেষ্টা, ভাঙচুর, চুরি, হুমকি এবং যৌথভাবে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

পুলিশ জানায়, বুধবার সন্ধ্যায় ২০২৫ সালের একটি দোকান চুরি মামলায় আসামি হিসেবে রিয়াজ ফকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আগৈলঝাড়া থানার হাজতে রাখা হয়েছিল।

পুলিশের ভাষ্য, রাত ১১টার দিকে হাজতখানার গ্রিলে নিজের মাথায় নিজে আঘাত করেন রিয়াজ। এতে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়লে প্রথমে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রিয়াজের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে। বিকাল ৪টার দিকে ওই গুজবকে কেন্দ্র করে দুই থেকে তিনশ নারী-পুরুষ আগৈলঝাড়া থানায় হামলা চালায় বলে পুলিশ জানায়। এ সময় থানায় ভাঙচুর এবং ডিউটি অফিসার এএসআই আব্দুল হালিমকে মারধরের ঘটনা ঘটে।

হামলায় কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আলামিন হোসেন ও মেহেদী হাসান আহত হন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষুব্ধ লোকজনের সংঘর্ষ হয়। এতে পুলিশের পাঁচ সদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন।

আরও পড়ুন:

আটক যুবককে হত্যার গুজবে বরিশালে থানায় হামলা, আহত ৫ পুলিশ

আগৈলঝাড়া থানায় হামলার নিন্দা পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের

মৃত্যুর গুজবে থানায় হামলা-ভাঙচুর, সেই রিয়াজ চুরি মামলায় জেলে