ফেইসবুকে ‘ধর্ম অবমাননার পোস্ট’ ঘিরে ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় বন্ধ হয়ে যাওয়া নড়াইলের মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজ খুলছে সোয়া এক মাস পর।
Published : 19 Jul 2022, 09:37 PM
কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি অচিন কুমার চক্রবর্তী জানান, আগামী রোববার কলেজটি খুলছে। এর আগে শনিবার কলেজ ক্যাম্পাসে এলাকার মানুষের সঙ্গে একটি সমাবেশ হবে।
তবে এর আগে বুধবার কলেজ খোলার কথা জানিয়েছিলেন গভর্নিং বডির সভাপতিসহ অন্যরা। সভা করার বিষয়ে রাতে নতুন কর্মসূচি হওয়ায় কলেজ খোলার সময় পরিবর্তন করা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
গত ১৮ জুন কলেজের এক ছাত্রের ফেইসবুকে প্রকাশিত পোস্টে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ উঠলে এ নিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ওই ছাত্রের পক্ষ নিয়েছেন এমন খবর রটানো হলে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ বাধে। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেয় কয়েকজন। তিনটি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
এই প্রেক্ষাপটে ওই দিনই কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
গভর্নিং বডির সভাপতি বলেন, “গভর্নিং বডি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, প্রশাসনের সম্মতি পেলে বুধবার কলেজে শিক্ষাদান কার্যক্রম আবার চালু হবে।”
প্রশাসনের সম্মতি রয়েছে বলে নড়াইলের ডিসি মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “রোববার কলেজ খুলে দেওয়া হচ্ছে। প্রথম দিন থেকে এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ক্লাস হবে। পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে প্রশাসন।”
কলেজ খোলার খবরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে।
আর পুলিশ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলার পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায়।
পুলিশ সুপার বলেন, খোলা বা না খোলা একান্তই কলেজ কর্তৃপক্ষের ব্যাপার। প্রয়োজনে তারা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলবেন। তবে নিরাপত্তার জন্য পুলিশের সহযোগিতা চাইলে সে জন্য তারা প্রস্তুত রয়েছেন।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাস ঘটনার দিন থেকে এখন পর্যন্ত বাড়ি যাননি।
স্বপন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সবকিছু নির্ভর করছে কালকের পরিবেশ-পরিস্থিতির ওপর। সেদিনের পর থেকে এখনও বাড়ি যাইনি। আশা করছি ধীরে ধীরে সবকিছু স্বাভাবিক হবে। রোববার থেকেই কলেজে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে।”
তিনি বলেন, “গত ১৮ জুন আমার আত্মার অপমৃত্যু হয়েছে। তার পরও কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী, এলাকাবাসী ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি আমার দায়িত্ব রয়েছে। আমি আমার দায়িত্বে অবহেলা করতে পারি না। কলেজের শিক্ষার্থীরা আমার প্রাণ। তাদের সঙ্গে আমার অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক।”
কলেজের এ ঘটনায় ২৫ জুন মির্জাপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনর্চাজ এসআই শেখ মোরছালিন বাদী অজ্ঞাতপরিচয় ১৭০ থেকে ১৮০ জনকে আসামি করে নড়াইল সদর থানায় মামলা করেন। মামলায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন কলেজের শিক্ষার্থী রহমাতুল্লাহ রনি, মোবাইল ফোন মেকানিক শাওন খান, অটোরিকশা চালক সৈয়দ রিমন আলী, মাদ্রাসা শিক্ষক মনিরুল ইসলাম ও শ্রমিক নুরুন্নবী।
তাদের বাড়ি কলেজের আশপাশের বিভিন্ন গ্রামে।
নড়াইল থানার পরিদর্শক মাহামুদুর বলেন, পুলিশ মামলা তদন্ত করছে। গ্রেপ্তারকৃতরা কারাগারে রয়েছেন।