দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষ বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় উদযাপন করেছেন পদ্মা সেতু উদ্বোধন।
Published : 25 Jun 2022, 09:46 PM
কয়েক দিন আগে থেকেই পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তের জেলা মুন্সীগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর আর দেশে দক্ষিণে বরিশালসহ বিভিন্ন জেলার মানুষ আনন্দ-মিছিল করছিলেন। কয়েক দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে অনেক জেলায়।
শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতুর দ্বার উন্মোচন করার সময় থেকে দেশের অন্য অনেক জেলার মানুষও অনলাইনে সংযুক্ত হয়ে এবং না হয়েও উদ্বোধন উদযাপনে অংশ নেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
বাগেরহাট
এ জেলায় সাত দিনের আনন্দ মেলা ও শোভাযাত্রাসহ নানা আয়োজন করেছে জেলা প্রশাসন।
সকাল সোয়া ৯টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বর থেকে একটি আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ঘুরে জেলা পরিষদ মাঠে গিয়ে শেষ হয়।
এর আগে বাগেরহাট শহরের জেলা পরিষদ মাঠে বেলুন উড়িয়ে সাত দিনব্যাপী আনন্দ মেলার উদ্বোধন করেন বাগেরহাটের ডিসি মোহাম্মদ আজিজুর রহমান।
জেলার পুলিশ সুপার কে এম আরিফুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. খন্দকার রিজাউল করিমসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বরিশাল
বিভাগীয় শহরে বর্ণাঢ্য র্যালি আয়োজন করে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ।
সকাল ৮টায় জেলা পুলিশ লাইন্স থেকে বেলুন উড়িয়ে বর্ণাঢ্য র্যালির উদ্বোধন করে রেঞ্জ ডিআইজি এস এম আক্তারুজ্জামান। পরে এটি প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সার্কিট হাউজ চত্বরে শেষ হয়।
জেলা প্রশাসনের উদ্যেগে আরেকটি র্যালি সার্কিট হাউজ থেকে শুরু হয়ে শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে শেষ হয়।
র্যালিতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বগুড়া
শহরে জেলা প্রশাসন ও আওয়ামী লীগ আলাদা বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে সকাল ৯টা থেকে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারী, স্কুল ও কলেজছাত্রদের নিয়ে র্যালি করেন ডিসি মো. জিয়াউল হক।
র্যালিতে পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান মজনু, সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু উপস্থিত ছিলেন।
জেলা আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী অঙ্গ সংগঠন সাত মাথায় সমাবেশ ও আলোচনা সভা করে।
চুয়াডাঙ্গা
চুয়াডাঙ্গায় র্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সকাল ৯টায় এক বর্ণাঢ্য র্যালি চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে টাউন ফুটবল মাঠে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে বেলুন ওড়ানো হয়। কবুতর অবমুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে হয় আলোচনা সভা।
গাইবান্ধা
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন শহরে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করে। এছাড়া গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগ, পৌর আওয়ামী লীগ ও জেলা যুবলীগের উদ্যোগে শহরে পৃথক র্যালি বের করা হয়।
জেলা প্রশাসনের র্যালি উদ্বোধন করেন ডিসি অলিউর রহমান।
র্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্থানীয় সুলতানা কামাল ইনডোর স্টেডিয়ামে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদ্মা সেতুর উদ্বোধন বড় পর্দায় প্রদর্শনসহ থিম সং পরিবেশন করা হয়। পরে স্টেডিয়ামে বেলুন, ফেস্টুন ও কবতুর ওড়ানো হয়।
এছাড়া গাইবান্ধা পৌরসভার আয়োজনে স্থানীয় পৌর শহীদ মিনার চত্বরে বেলুন ওড়ানো হয়। জেলা আওয়ামী লীগের র্যালিটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আসাদুজ্জামান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে আলোচনা সভা হয়।
সভায় বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহ সারোয়ার কবীর, গাইবান্ধা পৌরসভার মেয়র মতলুবর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাদেকুর রহমান
টাঙ্গাইল
প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে আনন্দ র্যালি করে টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. ফরহাদ হোসেনের তত্ত্বাবধায়নে প্রশাসনিক ভবন থেকে বেরিয়ে এটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে।
র্যালিতে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম, বিভিন্ন অনুষদের ডিনসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। জেলা প্রশাসন কার্যালয় চত্বর থেকে সকাল ৯টায় র্যালিটি বের হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ইনডোর স্টেডিয়ামে শেষ হয়।
র্যালিতে ডিসি সাহেলা আক্তার, পুলিশ সুপার হাসান নাহিদ চৌধুরী, জেলা আওয়ামীল লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট চন্দন কুমার পাল, পৌরসভার মেয়র গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া লিটন, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
ঝালকাঠি
ঝালকাঠিতে বর্ণাঢ্য র্যালি হয়েছে। সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সামন থেকে র্যালিটি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে গিয়ে শেষ হয়।
ডিসি মো. জোহর আলী র্যালিতে নেতৃত্ব দেন। র্যালিতে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন স্তরের প্রায় এক হাজার মানুষ অংশ নেন।
র্যালি বর্ণাঢ্য করতে বিভিন্ন রকমের বাদ্যযন্ত্র ও ব্যানার, প্লাকার্ড রাখা হয়।
যশোর
উদ্বোধন অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার প্রত্যক্ষ করেন জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। যশোর টাউন হল ময়দানে সরাসরি সম্প্রচার অনুষ্ঠান হয়।
শেষে বেলুন ও শান্তির প্রতীক কবুতর ওড়ানো হয়। জেলা আওয়ামী লীগ আনন্দ মিছিল বের করে। এছাড়া বিকেলে জেলা পুলিশ বিকেল ৩টায় আয়োজন করে শোভাযাত্রা ও আলোচনা অনুষ্ঠানের। সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে টাউন হল ময়দানের শতায়ু মঞ্চে পরিবেশিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
জেলার কালিগঞ্জে সুশীলন নামে একটি বেসরকারি সংস্থার উদ্যেগে ‘উপকূলবাসীর পদ্মা উৎসব’ পালিত হয়েছে।
সুশীলন মিলনায়তনে শ্যামনগর ও কালিগঞ্জের কয়েকশ মানুষের উপস্থিতিতে র্যালি ও আলোচনাসভা হয়।
সাহিত্যিক অধ্যাপক গাজী আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় সুশীলনের অতিরিক্ত পরিচালক মোস্তফা আক্তারুজ্জামান পল্টু, সুকুমার দাশ বাচ্চু বক্তব্য দেন।
কেক কেটে শুরু হওয়া উৎসব লোকজ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দিয়ে শেষ হয়।
খুলনা
সকাল ১০টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে নানা রঙের বেলুন উড়িয়ে স্মরণীয় মুহূর্তটি উদযাপন করা হয়। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের বিপুল অংশগ্রহণ ও উজ্জীবিত জনতার বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস ছিল এ বিভাগীয় শহরে।
খুলনার মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মাসুদুর রহমান ভূঁঞা, রেঞ্জ ডিআইজি খ. মহিদ উদ্দিন, খুলনার ডিসি মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার অনুষ্ঠানে ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদ্মা সেতু উদ্বোধন অনুষ্ঠান বড়পর্দায় সরাসরি প্রদর্শন করা হয়।
দিনভর নানা আয়োজনের সঙ্গে রাতে জেলা স্টেডিয়ামে থাকছে আতশবাজি ও নান্দনিক লেজার শো।
রংপুর
জেলা শহরে আনন্দ র্যালি করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ।
বিকালে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ, টুরিস্ট পুলিশ, পিবিআই ও কমিউনিটি পুলিশিং রংপুর মেট্রোপলিটন কমিটির সদস্যদের অংশগ্রহণে র্যালিটি বের করে।
র্যালি শেষে দিনটি বাঙালির স্মরণকালের আনন্দের দিন বলে মন্তব্য করেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জনাব মেহেদুল করিম।
র্যালিতে পুলিশের সকল ইউনিটের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
নরসিংদী
দিনব্যাপী নানাবিধ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেলা প্রশাসন।
সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসন কার্যালয় থেকে একটি র্যালি বের হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে মোসলেহ উদ্দিন ভূঁঞা স্টেডিয়ামে শেষ হয়। পরে সেখানে বড় পর্দায় উদ্বোধন অনুষ্ঠান দেখানো হয়।
বিকাল ৩টা থেকে কয়েকটি ব্যান্ডের অংশগ্রহণে কনসার্টের আয়োজন করে জেলা কর্তৃপক্ষ।
বগুড়া
বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল বগুড়া জেলা প্রসাশন ও আওয়ামী লীগ। জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে সকাল ৯টা থেকেই প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং বিভিন্ন স্কুল, কলেজে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ব্যান্ড পার্টি সহকারে শোভাযাত্রা বের করেন।
আলোচনা সভা, মিষ্টি খাওয়ানো, কনসার্ট আয়োজন এবং বড় পর্দায় প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন অনুষ্ঠান বড় পর্দায় দেখানোর ব্যাবস্থা করে জেলা প্রশাসন। অন্যদিকে জেলা আওয়ামী লীগ, সহযোগী সংগঠন নিয়ে শহরের সাতমাথায় সমাবেশ, আলোচনা সভা শেষে শোভাযাত্রা বের করে।