হাতিয়া হাসপাতালে ‘চিকিৎসক না থাকায়’ রোগীর মৃত্যু, ৩ জন বদলি

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ‘চিকিৎসক অনুপস্থিত থাকায়’ এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।

নোয়াখালী প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 24 April 2022, 12:15 PM
Updated : 24 April 2022, 12:15 PM

রোববার সকালের এ ঘটনার পর ওই হাসপাতালের চিকিৎসকসহ তিন জনকে তাৎক্ষণিক বদলি এবং দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মৃত সালাউদ্দিন মিরণ (৫৫) হাতিয়ার পূর্ব খিরদিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থার নিরাপত্তা প্রহরী।

মিরণের ছেলে ছেলে মো. সোহেল রানা বলেন, সকাল পৌনে ৬টা থেকে টানা দুই ঘণ্টা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক, নার্সসহ সেবাদানকারী কেউ না থাকায় জরুরি বিভাগে ছটফট করে তার বাবা মারা যান।

তিনি বলেন, “স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিচতলা এবং দ্বিতীয় তলায় অসংখ্যবার ছোটাছুটি করেও চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী কাউকে পাওয়া যায়নি; যার কারণে বিনা চিকিৎসায় আমার কোলে বাবার মৃত্যু হয়।”

এ ঘটনায় চিকিৎসকসহ তিন জনকে তাৎক্ষণিক ভাসানচরে বদলি করা হয়েছে বলে জেলা সিভিল সার্জন মাসুম ইফতেখার জানান।

এরা হলেন হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন ডা. দীপ্ত চন্দ্র কুরী, আফাজিয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো) মো. ইখতিয়ার উদ্দিন ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী আশ্রাফ আলী।

সিভিল সার্জন আরও জানান, ঘটনাটি তদন্তে জেলা সিভিল সার্জন অফিস থেকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সেলিমকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়।

প্রতিবেদনে যাদের দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিলবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজিম উদ্দিন জানান, ঘটনা তদন্তে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু) ডা. খাদিজা রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক