ভাসানচরের উদ্দেশে কক্সবাজার ছাড়ল আরও ৫৫২ রোহিঙ্গা
নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তরের উদ্দেশ্যে আরও ৫৫২ জন রোহিঙ্গাকে নিয়ে ১৩টি বাস কক্সবাজার ছেড়েছে।
শুক্রবার সকাল ও বিকালে দুই ধাপে উখিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠ থেকে বাসগুলো রওনা দেয় বলে জানান অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. সামছু-দৌজা নয়ন।
এই ৫৫২ জনসহ এ পর্যন্ত আট দফায় মোট ১৯ হাজার ১৪৩ জন রোহিঙ্গাকে কক্সবাজার থেকে নেওয়া হলো।
গত বছর ৪ ডিসেম্বর কক্সবাজারের আশ্রয় শিবিরগুলো থেকে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের কার্যক্রম শুরু হয়।
শুরুতে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের কার্যক্রম নিয়ে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরসহ বাস্তুচ্যুত এ জনগোষ্ঠীর মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছিল। তবে দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার পর গত ৯ অক্টোবর ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের সহায়তা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার সম্মতি প্রকাশ করে সরকারের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করে ইউএনএইচসিআর।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের আগে ছয় দফায় ভাসানচরে রোহিঙ্গা স্থানান্তর করা হয়। এরপর আরও দুই দফা স্থানান্তর হয়েছে।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর সপ্তম দফায় গত ২৪ নভেম্বর ২৫৭ জন রোহিঙ্গার একটি দলকে কক্সবাজার থেকে নেওয়া হয়। এরপর অষ্টম দফায় শুক্রবার নেওয়া হলো ৫৫২ জন।
গত বছর সরকার সিদ্ধান্ত নেয় এক লাখ রোহিঙ্গাকে কক্সবাজারের আশ্রয় শিবিরগুলো থেকে নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তর করা হবে। এই উদ্দেশ্যে সরকার ভাসানচরে বাসস্থানসহ অবকাঠামোগত নানা ধরনের অবকাঠামো গড়ে তোলে।
সামছু-দৌজা বলেন, শুক্রবার সকালে উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরগুলো থেকে ভাসানচরে স্থানান্তরের জন্য উখিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠ থেকে আটটি বাস ৩৮৯ জনকে নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দ্যেশে রওনা দেয়। এরপর বিকালে পাঁচটি বাস ১৬৩ জনের অপর বহরটি নিয়ে রওনা দেয়।
তাদের নিয়ে বাসগুলো প্রথমে চট্টগ্রাম যাবে। সেখান থেকে পরে তাদের ভাসানচরে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
সামছু-দৌজা বলেন, উখিয়া ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাসে স্বেচ্ছায় ভাসানচরে যেতে আগ্রহ প্রকাশকারী রোহিঙ্গাদের জন্য অস্থায়ী বুথ খোলা হয়েছে। সেখানে স্বেচ্ছায় যেতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গাদের নাম নিবন্ধন করা হচ্ছে। যারা যেতে আগ্রহ প্রকাশ করবে তাদের নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।"
তবে অষ্টম দফায় শুক্রবার চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেওয়া ৫৫২ জনের পর কোনো রোহিঙ্গা নাম নিবন্ধন করেনি বলে জানান অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার সামছু-দৌজা।
তিনি জানান, চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হওয়া রোহিঙ্গাদের বহনকারী বাসগুলোর আগে ও পিছনে পুলিশের কড়া পাহারা ছিল। এছাড়া রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত সরকারি কর্মকর্তাদের বহনকারী কয়েকটি গাড়িও সঙ্গে রওনা হয়।
বৃহস্পতিবার রাত থেকে বিভিন্ন আশ্রয় শিবির থেকে ভাসানচর যেতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গাদের উখিয়া ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা শুরু হয়। এ নিয়ে উখিয়া ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাসসহ আশপাশের এলাকায় আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
