১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

৫২ বছর বয়সে স্নাতক ডিগ্রি, কুয়েতে প্রশংসায় ভাসছেন প্রবাসী

সবজি-ফলের ব্যবসার পাশাপাশি সাংবাদিকতা করেন তিনি।

৫২ বছর বয়সে স্নাতক ডিগ্রি, কুয়েতে প্রশংসায় ভাসছেন প্রবাসী

মো. হেবজু মিয়া (৫২), বাঁ দিক থেকে চতুর্থ।

আ হ জুবেদ, কুয়েত প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 14 Oct 2026, 10:20 PM

Updated : 14 Oct 2026, 10:20 PM

প্রতিদিনের চেনা ব্যস্ততা, কাঁচাবাজারের হাঁকডাক আর সংবাদ সংগ্রহের জন্য ছোটাছুটি। সবকিছুর মাঝেও জিইয়ে ছিল একটি স্বপ্ন, উচ্চশিক্ষার সনদ। প্রবাসজীবনের প্রতিকূলতা ও বয়সের হিসাব-নিকাশ ভুল প্রমাণ করে সেই অধরা স্বপ্নকে জয় করলেন ৫২ বছর বয়সি এক প্রবাসী।

বলছি কুয়েতে প্রবাসী বাংলাদেশি মো. হেবজু মিয়ার কথা। বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার গোয়ালনগর গ্রামে। ২ ছেলে ও ৩ মেয়ের পিতা হেবজু প্রায় ৩০ বছর ধরে কুয়েত প্রবাসী।

প্রবাসের খাটুনি আর সাংবাদিকতার ব্যস্ততার মধ্যেও ভারতের জয়পুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে সম্প্রতি অনলাইনে বিবিএ (স্নাতক) ডিগ্রি পেয়ে প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।

তার এই অর্জনকে সম্মান জানাতে ‘প্রবাসীদের মেধা ও পরিশ্রমে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ শিরোনামে জমকালো এক সংবর্ধনার আয়োজন করেছে ‘বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব, কুয়েত’।

রোববার রাতে কুয়েতের শার্ক সিটি টাওয়ার হোটেলের মিলনায়তনে বসেছিল প্রবাসী বাংলাদেশিদের এ উৎসবমুখর মিলনমেলা।

সংবর্ধিত অতিথি মো. হেবজু মিয়া কেবল প্রবাসী ব্যবসায়ীই নন, তিনি বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব কুয়েতের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশের একটি টেলিভিশন চ্যানেলের কুয়েত প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন।

বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব কুয়েতের সভাপতি মঈন উদ্দিন সরকার সুমনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আ হ জুবেদের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুয়েতে অবস্থানরত প্রবাসী সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, প্রকৌশলী ও সামাজিক-রাজনৈতিক অঙ্গনের নেতা-কর্মীরা।

মঈন উদ্দিন সরকার সুমন বলেন, “প্রবাসজীবনের প্রতিকূলতা ও কর্মব্যস্ততার মাঝেও শিক্ষা অর্জনের এই প্রচেষ্টা অন্যদের জন্য এক অনুপ্রেরণার উৎস। হেবজু মিয়ার এ সফলতা প্রমাণ করে, ইচ্ছাশক্তি ও লক্ষ্য থাকলে যেকোনো বয়সে এবং যেকোনো পরিস্থিতিতেই সাফল্য অর্জন সম্ভব।”

তিনি জানান, কুয়েতের ফল-সবজির বাজারে প্রতিদিনের কাজের শিফট, তারপর আবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে দেশে সংবাদ পৌঁছে দেওয়া, এটাই ছিল হেবজু মিয়ার নিত্যদিনের রুটিন। কিন্তু ক্লান্তি যখন শরীর ছুঁয়েছে, ইচ্ছাশক্তি তখন তাকে টেনে নিয়ে গেছে বইয়ের পাতায়। ধৈর্য আর পড়াশোনাকে সঙ্গী করে মধ্যবয়সে এসে তিনি রচনা করলেন সাফল্যের রূপকথা।