১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩ কার্তিক ১৪৩৩

অধ্যক্ষকে হাতুড়িপেটার অভিযোগ শ্রমিক লীগ নেতার বিরুদ্ধে

বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় একটি কলেজের অধ্যক্ষকে হাতুড়িপেটা করে পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শ্রমিক লীগের এক নেতার বিরুদ্ধে।

বগুড়া প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Nov 2017, 05:00 PM

Updated : 19 Aug 2022, 05:53 PM

আহত শহীদ জিয়া মডেল কলেজের অধ্যক্ষ মাহাতাব উদ্দিনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এ ঘটনায় পুলিশ উপজেলা শ্রমিক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক এ টি এম নুরুল আমিন সুমনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে বলে গাবতলী থানার ওসি খায়রুল বাশার জানান।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাহাতাব উদ্দিন বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজম খান কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। তখন শিক্ষকসহ বিভিন্ন পদে অবৈধভাবে ২২ জনকে নিয়োগ দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন তিনি।

“মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি আবার সভাপতি হতে আমাকে চাপ দেন। রাজি না হওয়ায় ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের অনুমতি ছাড়াই একক সিদ্ধান্তে গত ২ জুলাই আমাকে অধ্যক্ষ পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে জান্নাতুল ফেরদৌস নামে একজনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ করেন।”

তিনি বলেন, এ বিষয়ে হাই কোর্টে আপিল করলে এ সিদ্ধান্ত তিন মাসের জন্য স্থগিত করে। এরপর আজম খান সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে গেলে তার আবেদন খারিজ হয়ে যায়, ফলে তিনি অধ্যক্ষ পদ ফিরে পান।

“এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সুমনকে লেলিয়ে দেন। মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে কলেজে নিজ কক্ষে বসে কাজ করার সময় সুমনের নেতৃত্বে ১০-১২টি মোটরসাইকেলে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত ২০/২২ জন সন্ত্রাসী এসে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে না চাইলে হাতুড়ি দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করে ডান পা ভেঙে দেয়।”

হামলার বিষয়টি গাবতলী থানার ওসি ও সার্কেল এএসপিকে জানিয়েছেন। সুস্থ হলে মামলা করবেন বলে জানান অধ্যক্ষ।

মাহাতাব অধ্যক্ষ পদে নেই দাবি করে আজম খান বলেন, চাকরি দেওয়ার নামে বিভিন্ন জনের কাছে টাকা নিয়েছেন মাহাতাব। হয়তো তারাই তার উপর হামলা করে থাকতে পারে।

সুমনকে লেলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “অধ্যক্ষ দুর্নীতিবাজ। তার বিরুদ্ধে যেন আমি অবস্থান না নেই সে কারণে কৌশলগত কারণে তার উপর হামলার দায়ভার আমার উপর চাপানোর চেষ্টা করছেন।”

কলেজের কোনো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেন এ আওয়ামী লীগ নেতা।

অভিযোগ অস্বীকার করে সুমন বলেন, তিনি কলেজ যাননি বা অধ্যক্ষকে মারপিট করেননি।

গাবতলী থানার ওসি খায়রুল বাশার বলেন, “ঘটনা জানার পর অধ্যক্ষের কাছে গেলেও তিনি এখনও মামলা দেননি। তবে সুমনকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হয়েছে।

“বুধবার সকালে দুই দফা মামলা দেওয়ার জন্য অধ্যক্ষের কাছে যাওয়া হলেও তিনি বলেন, ‘সুস্থ হয়ে তার পর মামলা দিবেন’। তবে মনে হচ্ছে এ মুহূর্তে মামলা দিতে তিনি ভয় পাচ্ছেন।”

এদিকে সংগঠন বিরোধী কাজ করায় উপজেলা শ্রমিক লীগের যুগ্ম আহ্বায়কে পদ থেকে সুমনকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে মঙ্গলবার বিকালে জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সামসুদ্দিন শেখ হেলাল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।