কয়েকঘণ্টা পর নিভল নলকূপমুখে গ্যাসের আগুন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় একটি নলকূপ থেকে নির্গত হওয়া গ্যাসে আগুন ধরার কয়েকঘণ্টা পর নিভানো হয়েছে।
বুধবার দুপুরে দরিকান্দি গ্রামের জেলেপাড়ায় গৌরাঙ্গ দাসের বাড়ির নলকূপের গ্যাস আগুন ধরে। সন্ধ্যায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তা নিভিয়ে ফেলেন।
তবে ওই নলকূপ দিয়ে এখনও গ্যাস নির্গত হচ্ছে বলে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা ও এলাকাবাসী জানায়, গৌরাঙ্গ দাসের বাড়িতে মঙ্গলবার নলকূপ বসানোর সময় পাইপ দিয়ে পানির সঙ্গে বুদবুদ করে গ্যাস বের হতে থাকে। এই ঘটনা দেখতে উৎসুক জনতা ভিড় জমায়।
গৌরাঙ্গ দাস জানান, বুধবার দুপুরে এক যুবক দিয়াশলাই দিয়ে তাতে আগুন দিলে নলকূপের মুখে জ্বলতে থাকে। আগুন ১০-১৫ ফুট উচ্চতায় উঠে গেলে গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।
খবর পেয়ে বাঞ্ছারামপুর ফায়ার সার্ভিস গিয়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে বলে জানান তিনি।
গৌরাঙ্গ বলেন, “আমাদের বাড়িতে মঙ্গলবার টিউবওয়েল বসানোর পর থেকে ৫-৭ হাত উচায় পানি উঠতাছিল। আজকা সকালে কাউসার ড্রাইভার ম্যাচের কাঠি দিয়া আগুন দিলে দাউদাউ কইরা আগুন ধইরা যায়। আমরা খুব ভয় পাইয়া গেছি। ফায়ার সার্ভিস আইয়া সন্ধ্যায় আগুন নিভাইলেও গ্যাস এহনও বাইর হইতাছে।”
এ ব্যাপারে দরিকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম স্বপন জানান, টিউবওয়েল বসানোর সময় টিউবওয়েল দিয়ে বুদবুদ আকারে ৮-১০ ফুট উচ্চতায় পানি বের হতে থাকে। পরে এতে আগুন দিলে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে।
ফায়ার সার্ভিস আগুন নিভালেও টিউবওয়েল দিয়ে ৮-১০ ফুট উচ্চতায় পানি বের হচ্ছে।
বাঞ্ছারামপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার কামরুল হাসান বলেন, “দরিকান্দির ওই টিউবওয়েলে অনেক বেশি গ্যাসের চাপ ছিল। এখানে আগুন দেওয়ায় তা ১০-১৫ ফুট উপরে উঠে জ্বলতে থাকলে আমরা বাঁশের মাধ্যমে টিউবওয়েলের মুখ ঘুড়িয়ে কেটে দেই।”
আপাতত আগুন বন্ধ রয়েছে। তবে কেউ যদি আবার আগুন দেয় তবে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, বলেন তিনি।
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের গৌরিপুর এরিয়া অফিসের ব্যবস্থাপক মোস্তফা মাহিম সোহাগ বলেন, “এটা পকেট গ্যাস বলে মনে হচ্ছে। তারপরও আমরা বিষয়টা দেখব। প্রয়োজনে বাপেক্সকে লিখিতভাবে জানাব।”
