২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

নড়িয়া পৌরসভায় আ. লীগ প্রার্থীর জামানাত বাজেয়াপ্ত

নড়িয়া পৌরসভা উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম চুন্নু জামানত হারিয়েছেন।

কে এম রায়হান কবীর

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Aug 2016, 03:39 PM

Updated : 20 Aug 2022, 01:24 PM

রোববার অনুষ্ঠিত ভোটে নৌকা প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ৪৯৩ ভোট।

এতে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মো. জালাল উদ্দিন।

মনোনয়ন দেওয়ার সময় সমন্বয়হীনতা এবং দলের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন না করায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীর ভরাডুবি হয়েছে নেতাকর্মীদের অভিযোগ।

নড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসান রাঢ়ী বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নড়িয়া পৌরসভায় হায়দার আলী টানা চতুর্থবারের মত মেয়র হন। পরে ১৯ এপ্রিল তিনি মারা যান। তার মৃত্যুতে মেয়রের পদটি শূন্য হলে উপ-নির্বাচনের ঘোষণা দেয় নির্বাচন কমিশন।

তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার পর দলীয় রীতি অনুযায়ী তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতামত নিয়ে নড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসান আলী রাঢ়ির নাম মনোনয়নে পাঠানো হলে বোর্ড তা উপেক্ষা করে নড়িয়া কলেজের সাবেক ভিপি সিরাজুল ইসলাম চুন্নুকে মনোনয়ন দেয়।

“গত ৭ অগাস্ট ভোটগ্রহণ শেষে দেখা যায় ৫ হাজার ২৫২ ভোট পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবু রাঢ়ি নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী হিসেবে ৪ হাজার ৪১৭ ভোট পেয়েছেন সাবেক মেয়রের ছেলে আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদুল হাসান জুয়েল। আর নৌকা প্রতীকে চুন্নু পেয়েছেন মাত্র ৪৯৩ ভোট।”

তবে পরাজয়ের কারণ হিসেবে চুন্নু দলের নেতাকর্মীদের দিকে আঙুল তুলছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্র মনোনয়ন দিলেও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করেছেন। তারা কেউ নৌকার পক্ষে কাজ করেননি।

“স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যান আমার বিরুদ্ধে সরাসরি কাজ করেছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রকাশ্যে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে ভোট চেয়েছেন।”

উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শাহ আলম মাস্টার বলেন, “নড়িয়া আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হওয়া সত্বেও তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা করে মনোনয়ন দেওয়ায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ভরাডুবি হয়েছে।”

এ বিষয়ে শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত আলী বলেন, তৃণমূলের মতামতের সঙ্গে আমারও সুপারিশ ছিল।একজন ত্যাগী ও যোগ্য নেতাকে মনোনয়ন না দিয়ে এমন একজনকে কেন্দ্র থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে যিনি ২২ বছর আগে ছাত্রলীগের টিকেটে নড়িয়া কলেজের ভিপি হওয়ার পর আর দলীয় কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন না।”

“দলের সভানেত্রী ও মনোনয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশপাশে কিছু লোক কেন্দ্রীয় নেতা পরিচয়ে ঘোরাফেরা করেন, তারাই অযোগ্য লোককে মনোনয়ন পাইয়ে দিয়ে দলের মানসম্মানহানি করেছেন।”