সিরাজগঞ্জে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার ২ নারী বগুড়ার
সিরাজগঞ্জ সদরে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার চার নারীর মধ্যে দুজনের বাড়ি বগুড়ার শাজাহানপুরে। তাদের একজনের ভাইও নিখোঁজ রয়েছেন।
এরা হলেন শাজাহানপুর উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের ক্ষুদ্রফুলকোট গ্রামের দিনমজুর দবির উদ্দিন প্রামানিকের মেয়ে হাবিবা আকতার মিশু (২০) ও একই ইউনিয়নের পরানবাড়িয়া দক্ষিণপাড়ার রফিকুল ইসলামের মেয়ে রুমানা আকতার (২১)। রফিকুল ইসলাম ওই গ্রামের মৃত তোজাম্মেল হকের পালক ছেলে।
হাবিবা আকতার মিশুর বড়ভাই মতিউর রহমান ৫-৬ মাস থেকে নিখোঁজ রয়েছেন বলের পরিবারের সদস্যরা জানান।
গত রোববার ভোররাতে সিরাজগঞ্জ শহরের মাছুমপুর মহল্লার উত্তরপাড়ায় হুকুম আলীর ভাড়া বাড়ি থেকে এ চার নারীকে আটক করা হয়। তাদের হেফাজত থেকে ছয়টি হাতবোমা, গ্রেনেডের চারটি খোল, নয়টি জিহাদি বই, ডেটোনেটর, সুইচ ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার তাদের বাড়িতে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, রুমানা আকতার ফুলকোট উম্মুল ক্বোরা মাদ্রাসা থেকে জেডিসি পাস করার পর নগর আজিরন রাবেয়া মহিলা আলিম মাদ্রাসায় ৯ম শ্রেণিতে ভর্তি হন। সেখান থেকে ২০১৪ সালে আলিম পাস করেন।
রুমানার মা শাহানাজ বেগম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, জামা-কাপড়ে হাতের কাজ করার জন্য বগুড়ার শেরপুর শহরের এক সুতা-বোতামের দোকান থেকে কেনাকাটার সুবাদে সুজন (২৬) নামের এক সেলস ম্যানের সঙ্গে রুমানার সম্পর্ক হয় এবং পরে ২০১৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর তাদের বিয়ে হয়।
“সুজন তার বাড়ি গাজীপুর বলেছিল। বগুড়ার শেরপুরের দাড়কিপাড়া গ্রামে একটি ভাড়া বাড়িতে থেকে সুতা-বোতামের দোকানে চাকরি করত। সুজনের বাবা মৃত। বিয়ের সময় তার কোনো স্বজন উপস্থিত ছিল না।
রুমানার এক বছর তিন মাস বয়সী একটি ছেলে রয়েছে বলে জানান তিনি।
“বিয়ের পর মাঝেমধ্যে মেয়ে ও জামাই বেড়াতে আসত। গত ৪-৫ মাস যাবত দুজনের কারও সঙ্গে যোগাযোগ নেই।”
হাবিবা আকতার মিশুর বাবার বাড়ি গিয়ে স্বজনদের কাছ থেকে জানা যায়, মিশুও নগর আজিরন রাবেয়া মহিলা আলিম মাদ্রাসায় রুমানার সঙ্গে লেখাপড়া করেছেন। মিশুরা চার বোন ও এক ভাই। অপর তিন বোন হলেন- দুলালী (৩০), দিল শাহনাজ (২৫) ও আকতার বানু এবং ভাই মতিউর রহমান। মিশু সবার ছোট।
মিশুর মা মর্জিনা বেগম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ৫-৬ মাস আগে বড়ভাই মতিউর রহমানের বন্ধু খালিদ হাসানের সঙ্গে সম্পর্কের জেরে মিশুর বিয়ে হয়। খালিদ হাসানের বাড়ি রাজশাহী। তিনি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন। বছরখানেক আগে শাহনাজ ও আকতার বানুর বিয়ে হয় একসঙ্গে। এ দুজনের বিয়ে দেন মতিউর রহমান।
মতিউর শাজাহানপুরের বিহিগ্রাম এডিইউ ফাজিল মাদ্রাসা থেকে আলিম পাস করে বর্তমানে বগুড়া আজিজুল হক বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে অনার্সে লেখাপড়া করছেন বলে জানান মা মর্জিনা।
এদিকে মিশুর বিয়ের পর থেকেই মেয়ে, জামাই ও মতিউর রহমানের সঙ্গে তাদের (মা) কোনো যোগাযোগ নেই বলে জানান তিনি।
গত ৩ এপ্রিল রাতে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের জুয়ানপুর কুটির ভিটা গ্রামে একটি ভাড়া বাড়িতে বোমা তৈরির সময় সন্দেহভাজন দুই জঙ্গি নিহত হন। তাদের একজন ছিলেন তরিকুল ইসলাম তারেক।
তারেক হলেন হাবিবা আকতার মিশুর বড়বোন শাহনাজের স্বামী রায়হানের মামা। ওই মামলায় রায়হান গত তিন মাস আগে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। রায়হান সিরাজগঞ্জের সলংঙ্গা থানার এরান্দহ গ্রামের জয়নুল আবেদীনের ছেলে।
