বগুড়ায় বিস্ফোরণ: ‘মিথ্যা পরিচয়ে বাড়ি ভাড়া’
বগুড়ার শেরপুরে বোমা বিস্ফোরণে নিহতরা ‘মিথ্যা পরিচয়ে’ বাড়ি ভাড়া করেছিল, যাদের একজনের পরিচয় পরে জানা গেছে।
রোববার রাতে উপজেলার গাড়ীদহ ইউনিয়নের জুয়ানপুর কুটির ভিটা গ্রামে বিস্ফোরণে দুই ব্যক্তি নিহত হন।
এদের একজন হলেন সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের জামুয়া গ্রামের আবুবক্কার সিদ্দিকের ছেলে তরিকুল ইসলাম। আরেকজনের পরিচয় জানা যায়নি।
তরিকুলকে ২০০৫ সালের ১৭ অগাস্ট সারাদেশে একযোগে বোমা হামলার ঘটনায় সিরাজগঞ্জ আদালত চত্বরে বোমা বিস্ফোরণের মামলায় পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। তিন বছর হাজতবাসের পর ২০০৯ সালে ওই মামলার রায়ে তাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।
সোমবার রাতে তরিকুলের তিন ভাই শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার লাশ শনাক্ত করেন বলে জানান বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল।
শেরপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার গাড়ীদহ ইউনিয়নের জুয়ানপুর কুটির ভিটা গ্রামে যে বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণে দুজনের মৃত্যু হয়েছে সেই বাড়িটি বগুড়া-ঢাকা মহাসড়ক থেকে আনুমানিক দুইশ গজ দূরে।
মহাসড়কের কাছাকাছি হলেও সন্ধ্যার পর ওই এলাকা জনশূন্য হয়ে পড়ে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
চারদিকে সীমানা প্রাচীরে ঘেরা একতলা পাকা বাড়িটির মালিক মাহবুবুর রহমান। তিনি ঢাকার ইপিজেড এলাকার ভাদাইল বাজারে ব্যবসা করেন এবং সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
তার মেয়ে সুমাইয়া আক্তার পলির শ্বশুরবাড়ি কুটির ভিটা গ্রামে। তিনি সেখান থেকে তার বাবার ওই বাসাটি দেখাশোনা করেন।
সুমাইয়া পলি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বাসাটি প্রায় ছয় মাস আগে নওগাঁ থেকে আসা মিজান নামে একজনকে আমি ভাড়া দিয়েছিলাম।
“এরপর থেকে মিজান তার স্ত্রী ও তার ভগ্নিপতি সেখানে থাকতেন। মিজান সিএনজি অটোরিকশা চালক ও তার ভগ্নিপতি কাঁচামাল ব্যবসায়ী বলে বাসা ভাড়া নেওয়ার সময় আমাকে জানিয়েছিল। ”
১৩-১৪ বছরের এক মেয়ে মাঝেমধ্যে সেখানে আসত, যে মিজানের মেয়ে বুশলিমা এবং গাবতলীর একটি মাদ্রাসায় পড়ালেখা করত বলে মিজানের কাছ থেকে তিনি শুনেছেন বলে জানান সুমাইয়া পলি।
তিনি আরও বলেন, গত শুক্রবার মিজান বাসা থেকে তার স্ত্রীকে নিয়ে চলে গেলে তার ভগ্নিপতির সঙ্গে অন্য একজন বাসায় ওঠেন।
“এখন তো তারা নেই, বোঝা যাচ্ছে তারা বাড়ি ভাড়া নেওয়ার সময় সঠিক পরিচয় দেয়নি।”
তার বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণে দুইজন মারা গেছেন খবর পেয়ে সোমবার সকালে ঢাকায় থেকে শেরপুর আসেন সুমাইয়ার বাবা মাহবুবুর রহমান।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পরিচয় গোপন করে বাড়ি ভাড়া নিয়ে জঙ্গি আস্তানা করবে, এটা আমি কল্পনাও করতে পারিনি।”
গাড়ীদহ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. আব্দুল খালেক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রোববার রাতে বিকট শব্দ শুনে দৌড়ে এসে দুই ব্যক্তিকে রক্তাক্ত অবস্থায় কাতরাতে দেখে আমি পুলিশকে খবর দিই।”
সন্ধ্যার পর ওই বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে এমনিতেই লোকজন কম চলাচল করে। তবে এখন সন্ধ্যার পর একেবারে জনশূন্য হয়ে পড়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সোমবার রাতে তরিকুলের ভাই ইসলামী ব্যাংক উল্লাপাড়া শাখার সিনিয়র অফিসার সানাউল্লাহ (৪৪), স্থানীয় জামুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক লিয়াকত আলী ও বরকত উল্লাহকে বগুড়া আনা হয়।
“২০০৫ সালে সারাদেশে একযোগে বোমা হামলার ঘটনায় তরিকুল গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এরপর কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে অন্য কোনো জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কি না তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে।”
শেরপুর থানার ওসি খান মোহাম্মদ এরফান জানান, তরিকুলের তিন ভাই এখন বগুড়া পুলিশের হেফাজতে আছেন। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
স্বজনদের কাছে তরিকুলের লাশ হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সোমবার দুপুরে তরিকুলের বাড়ি থেকে তার বাবা ও ভাইসহ পরিবারের ছয় সদস্যকে সিরাজগঞ্জ পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।
রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শেরপুরের গাড়ীদহ ইউনিয়নের জুয়ানপুর কুটির ভিটা গ্রামে ওই বোমার বিস্ফোরণে দুইজন নিহত হয়।
সোমবার সকালে ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ২৫টি গ্রেনেড, চারটি পিস্তল, ছয়টি ম্যাগজিন ও ৪০ রাউন্ড পিস্তলের গুলি উদ্ধার করা হয়।
