Published : 15 Apr 2016, 04:36 PM
কচুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মাহবুবুর রশীদ শুক্রবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাংবাদিকদের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও পরিষদ যৌথভাবে খাবারের আয়োজন করে।
“সেখানে পান্তা-ইলিশ, আলু, ডাল, বেগুন ভাজা ও চিংড়ি ভর্তা পরিবেশন করা হয়। ওই খাবার খেয়ে অনেকেরই পেট ব্যথ্যা শুরু হয়। শিশু ও নারীসহ অন্তত ২৮ জন কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন।”
কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি চিকিৎসা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, “অসুস্থরা পেটে ব্যাথা, বমি ও পাতলা পায়খানা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। খাদ্যের বিষক্রিয়ায় তারা অসুস্থ হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষায় জানা গেছে।”
তবে চিকিৎসার পর তাদের শারীকির অবস্থার উন্নতি হচ্ছে বলে জানান এ চিকিৎসক।
কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক তাপস দাস জানান, হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা ছাড়াও কচুয়া থানার চারজন পুলিশ সদস্যসহ আরও অন্তত ২০-২৫ জন বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এদিকে এ ঘটনা তদন্তে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা দেবেন্দ্র নাথ সরকারকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। এই কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ইউএনও কাজী রশীদ।
কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. তাপস কুমার দাশ ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কবির হোসেনও রয়েছেন এই তদন্ত কমিটিতে।
ওই অনুষ্ঠানের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়া এক শিশুর অভিভাবক কামরুল বলেন, সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে প্রায় তিন শতাধিক অতিথি এসব খাবার খেয়েছিলেন। খাবারগুলো বুধবার গভীর রাত থেকে তৈরি করা হচ্ছিল।
“পরিবেশন করা ডাল ও আলু ভর্তা থেকে খাদ্যে বিষক্রিয়ার এই ঘটনা ঘটতে পারে।”
অসুস্থদের মধ্যে ২৪ জনের নাম পাওয়া গেছে। এরা হলেন- স্থানীয় কলেজ শিক্ষক বনি আমিন (৪৪), মাধ্যমিক শিক্ষক শিরিনা খানম (৪৬), প্রাথমিক শিক্ষক কমল কৃষ্ণ (৪০), সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম (৪২), ইউএনও কার্যালয়ের এমএলএসএস মহিদুল ইসলাম দিদার (৪৫), প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের এক কর্মকর্তার মেয়ে সাঈদা (৬), মো. দেলোয়ার হোসেন (৩৩), বর্ণালী হালদার (১৪), আল আমিন (২১), আল আমিন (৪৫), নূপুর (৪০), মিনা (৩৫), শামীমা (১৫), জোবেদা (৭৫), জেসিকা (১০), ফাহমিদা (৭), মফিজুল ইসলাম (৩৫), তানিম শিকদার (১০), মিম (১৩), মর্জিনা (৩৫), সৈকত (১৩), শাহীনুর (১২), শামিমা (১৫) ও সাঈদা (৬)।