ইলিশ ‘লুটের’ অভিযোগ ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে
এক ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের নামে ইলিশ ‘লুটের’ অভিযোগ এনেছেন লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার মতিরহাট বাজারের ১২ ব্যবসায়ী।
তবে সোহেল রানা নামের ওই ম্যাজিস্ট্রেট লুটের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ওই এলাকায় ঘুরতে গিয়ে ‘অবৈধ মনে করে’ মাছগুলো নিয়ে যান তিনি।
এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কঙ্কন চাকমা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল রানা বুধবার রাতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের নামে মতিরহাট বাজার কোল্ড স্টোরেজের তালা ভেঙে ‘২০০ ইলিশ লুট করেন’; যেগুলোর বাজারমূল্য প্রায় চার লাখ টাকা।
এ ব্যাপারে হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী, ইব্রাহিম খোকন ও হুমায়ুন কবিরসহ ওই ১২ ব্যবসায়ীর পক্ষে বৃহস্পতিবার বিকালে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
ব্যবসায়ীরা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের কাছে দাবি করেন, মেঘনায় মাছ ধরা নিষিদ্ধ (মার্চ-এপ্রিল) করার আগেই এক থেকে দেড় কেজি ওজনের ২০০ ইলিশ তারা কমলনগর উপজেলার মতিরহাট বাজার কোল্ড স্টোরেজে মজুদ করেন।
জাটকা নিধন প্রতিরোধে চাঁদপুরের ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুরের চরআলেকজান্ডার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ নদীতে মার্চ-এপ্রিল এ দুমাস সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ।
ব্যবসায়ী হেলাল বলেন, “বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল রানা মতিরহাট বাজারে এসে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কথা জানান।
“এরপর তিনি ডিসি অফিসের মালি পাভেল ও পিওন আজাদসহ পাঁচ-ছয়জনকে নিয়ে কোল্ড স্টোরেজের তালা ভেঙে দুটি অটোরিকশায় করে ইলিশগুলো নিয়ে যান।”
অভিযোগ সম্পর্কে ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল রানা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি গতকাল ঘুরতে গিয়েছি মতিরহাট এলাকায়। তখন আমার মনে হলো এখানে অবৈধ মাছ আছে। আমি মাছগুলো নিয়ে আসি।”
লুটের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, উদ্ধার মাছগুলো তিনি তার লোক দিয়ে আবদুল গনি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হাফিজিয়া মাদ্রাসাসহ তিনটি এতিমখানায় বিতরণ করে দিয়েছেন।
আবদুল গনি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক আবদুল মোহায়মেন বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে তিনটি প্রতিষ্ঠানে ৩০টি ইলিশ দেওয়া হয়েছে।
বাকি মাছ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল বলেছেন, তার কর্মচারীরা এতিমখানায় মাছ দিয়েছে। কত মাছ ছিল তার সঠিক সংখ্যা তিনি জানেন না।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কঙ্কন বলেন, বুধবার রাতে কমলনগর উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য ওই ম্যাজিস্ট্রেটকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। অভিযান পরিচালনার কথাও ওই ম্যাজিস্ট্রেট ঊর্ধ্বতন কাউকে জানাননি।
এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
