ইট ভাটায় কিশোরকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ
ইট ভাটায় হাত-পা বেঁধে কয়েক দিন ধরে এক কিশোরকে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে কুমিল্লার এক ভাটা মালিকের বিরুদ্ধে।
আহত শাহজাহান লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা গ্রামের দিনমজুর আবদুস সোবাহানে ছেলে। সে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চিকিত্সাধীন রয়েছে।
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার লালমাই এলাকার ‘এবিএম’ ইটভাটার মালিক বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছে ঘটনার শিকার ওই কিশোর।
কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিত্সক রেজাউল করিম বলেন, ‘শাহজাহানের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও ছেঁকার চিহ্ন রয়েছে। স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে।’
‘নির্যাতনের’ কথা স্বীকার করে কমলনগর থানার ওসি কবির আহম্মদ জানান, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় শাহজাহানের পরিবারকে বিরুদ্ধে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছেন বলে তিনি জানান।
শাহজাহানের বাবা আবদুস সোবাহান সাংবাদিকদের জানান, অভাবের তাড়নায় ৫ মাসে আগে কুমিল্লার লালমাই এলাকার ‘এবিএম ইটভাটায়’ শ্রমিক হিসেবে কাজ নেয় শাহজাহান। ‘সেখানে ইট ভাটায় দিন-রাত কাজ করতে হতো তাকে।’
শাহজানাহান জানায়, গত ৫ মার্চ শনিবার পর্যন্ত কাজ শেষ করে অতিরিক্ত কাজ করতে পারবে না তা জানিয়ে মজুরি চাইলে ইট ভাটার মালিক বেলাল হোসেন খেপে যান।
“বেলালের দুই ভাই কামাল উদ্দিন ও গিয়াস উদ্দিন ইটভাটায় তাকে বেঁধে বেদম মারধর করে। এক পর্যায়ে কোমরে লোহার চেইন বেঁধে ইটভাটার পাশে এক ছোট্ট ঘরে আটকে রাখে এবং শরীরে ছেঁকা দেয়।”
হাসপাতালে দেখতে এসে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল করিম জানান, গত বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়দের সহায়তায় ইটভাটা থেকে পালিয়ে বাড়িতে চলে আসে শাহজাহান। সেদিন বিকেলে গুরুতর আহত অবস্থায় পরিবারের লোকজন তাকে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
অভিযোগকারীদের কাছ থেকে পাওয়া ইটভাটার মালিক বেলাল হোসেন ও তার দুই ভাইয়ের মোবাইল নম্বরে কয়েকবার চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।
