‘টাকা না দিলে বাড়ি যাব কেমনে’

“তাদের মধ্যে কয়েক’শ বোবা ও প্রতিবন্ধী শ্রমিকও রয়েছেন।”

গাজীপুর প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 1 April 2024, 05:21 AM
Updated : 1 April 2024, 05:21 AM

বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে গাজীপুরে একটি পোশাক কারাখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করছেন।

সোমবার সকাল ৬টা থেকে কোনাবাড়ী-কাশিমপুর আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে নগরীর কোনাবাড়ী জরুন এলাকায় ‘কেয়া নিট কম্পোজিট লিমিটেড’ কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন। বেলা ১১টার দিকে তারা কারখানার ফটকে অবস্থান করছিলেন।

সেখানে সফিকুল ইসলাম নামে এক শ্রমিক বলেন, “আর কয়েকদিন পর ঈদ। এখনও বেতন-বোনাস পাচ্ছি না। ছেলে-মেয়ে নিয়ে কিভাবে ঈদ করব? কয়েক দিন পর ছুটি হয়ে যাবে, টাকা না দিলে বাড়ি যাব কেমনে। আজকের মধ্যেই আমাদের টাকা পরিশোধ করতে হবে।”

পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলে কাশিমপুর জোনের শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপক চন্দ্র মজুমদার জানিয়েছেন।

এদিকে শ্রমিক বিক্ষোভের কারণে কোনাবাড়ী-কাশিমপুর সড়কে সবধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এরপর তারা কারখানার সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়।

কেয়া নিট কম্পোজিট লিমিটেড কারাখানার আন্দোলনরত শ্রমিকরা বলছেন, ফেব্রুয়ারি মাসের বকেয়া বেতন, ঈদ বোনাস এবং ২০২২ সালের বাৎসরিক ছুটির টাকা পরিশোধের দাবি করে আসছিলেন তারা। এদিকে মার্চ মাসও শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু কারখানা কর্তৃপক্ষ তা পরিশোধ করছেন না।

এর প্রেক্ষিতে শ্রমিকরা ভোর ৬টায় বিক্ষোভ শুরু করে। এক পর্যায়ে সকাল সাড়ে ৮টার পর থেকে কর্মবিরতি দিয়ে কারখানার সামনে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে তারা কোনাবাড়ী-কাশিমপুর সড়ক অবরোধ করে রাখে।

কাশিমপুর জোনের শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপক চন্দ্র মজুমদার বলেন, কেয়া নিট কম্পোজিট লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা ফেব্রুয়ারির বেতন পরিশোধ এবং ঈদ বোনাসের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। এক পর্যায়ে তারা কোনাবাড়ী-কাশিমপুর সড়ক অবরোধ করেন।

“খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। পরে শ্রমিককরা কারখানার সামনে ও ভেতরে অবস্থান করেন। তাদের মধ্যে কয়েক’শ বোবা ও প্রতিবন্ধী রয়েছেন।”

কোনাবাড়ি থানার ওসি কেএম আশরাফ উদ্দিন বলেন, বিশৃঙ্খলা এড়াতে ঘটনাস্থলে বাড়তি পুলিশ তোয়ায়েন হয়েছে। মালিক ও শ্রমিক দুপক্ষের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা চলছে।

তবে এ বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।