Published : 12 Sep 2025, 06:28 PM
বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে গিয়ে আরাকান আর্মির হাতে আটকের পর কৌশলে পালিয়ে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে ফিরেছেন বলে জানিয়েছেন ১৭ বাংলাদেশি জেলে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে একটি ট্রলারে তারা শাহপরীর দ্বীপ জেটি ঘাটে পৌঁছালে কোস্ট গার্ড তাদের হেফাজতে নেয় এবং পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে বলে জানান টেকনাফ মডেল থানার ওসি আবু জায়েদ মো. নাজমুন নুর।
ফিরে আসা ট্রলারের মাঝি দিল মোহাম্মদ বলেন, “সেন্টমার্টিনের পূর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে বুধবার দুপুরের সময় মাছ ধরার জাল ফেলে আমরা সবাই ট্রলারে ঘুমিয়ে পড়ি। এ সময় মিয়ানমার থেকে একটি স্পিডবোট এসে আমাদের সবাইকে আটক করে হাত বেঁধে ফেলে।
“পরে জেলেদের কৌশলে অন্ধকারের সুযোগে আমরা পালিয়ে আসতে পেরেছি। আমাদের সঙ্গে আটক হওয়া আরও চারটি ট্রলারসহ ২৩ জন জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি।”
ফিরে আসা জেলে ও শাহ পরীর দ্বীপ বাজার পাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ নুরু (৫০) বলেন, দ্বীপের মোহাম্মদ হাসানের মালিকানাধীন ট্রলার নিয়ে মঙ্গলবার তারা সাগরে মাছ শিকারে গিয়েছিলেন।
বুধবার বিকালে সেন্টমার্টিনের পূর্ব দক্ষিণ সাগরে মাছ ধরার সময় আরাকান আর্মির একটি স্পিড বোট তাদের ধাওয়া করে আটক করে।
মোহাম্মদ নুরু বলেন, “আমাদের ট্রলারে আমরা নয়জন ও আরেকটি ট্রলারের আটজন জেলে ছিল। আরাকান আর্মির দুই সদস্য আমাদের ট্রলারে উঠে এবং পিছনে তাদের স্পিড বোট নিয়ে ট্রলারগুলোকে মিয়ানমারের দিকে রওনা করতে বলে।
“অন্ধকারে আরাকান আর্মির স্পিড বোটটি সামনের দিকে এগিয়ে গেলে আমরা সুযোগ নিয়ে উল্টো দিকে ঘুরে সেন্টমার্টিনের কাছাকাছি চলে আসি। এ সময় আমরা সবাই চিৎকার করলে আমাদের ট্রলারে থাকা আরাকান আর্মির দুই সদস্য সাগরে ঝাঁপ দিয়ে তাদের সীমান্তের দিকে সাঁতরে চলে যায়।”
ট্রলার মালিক মোহাম্মদ হাসান বলেন, “অন্ধকারের সুযোগে আমার ট্রলারটি পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়। তবে আমার ট্রলারের এক জেলে আরাকান আর্মির আটক করা অন্য একটি ট্রলারে থাকায় সে ফিরতে পারেনি।
“সাগরে এখন জেলেদের নিরাপত্তা নাই। আরকান আর্মির ভয়ে জেলেরা সাগরের মাছ শিকারে যাচ্ছে না। ”
এদিকে বাংলাদেশি জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার খবরটি মিয়ানমারের আরাকান থেকে প্রকাশিত একটি অনলাইন সংবাদ মাধ্যেম গ্লোবাল আরাকান নেটওয়ার্ক (জিএএন) এ প্রকাশিত হয়েছে।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি আবু জায়েদ মো. নাজমুন নুর বলেন, আরাকান আর্মির হাত থেকে পালিয়ে আসা জেলেদের কোস্ট গার্ড হেফাজতে নিয়ে পরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পুলিশ তাদের প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।
এর আগে জেলেদের কাছ থেকে মিয়ানমারের জলসীমার কাছাকাছি মাছ শিকারে না যাওয়ার মুচলেকা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।