ফরিদপুরে ‘২০০ টন চালের ঘাটতি পেয়ে’ গুদাম সিলগালা

ঘটনার পর থেকে খাদ্য গুদামটির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গা ঢাকা দিয়েছেন।

ফরিদপুর প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 24 Nov 2022, 03:19 PM
Updated : 24 Nov 2022, 03:19 PM

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে ২০০ মেট্রিক টন চালের ঘাটতি পেয়ে উপজেলা খাদ্য গুদাম সিলগালা করা হয়েছে। 

গুদামের নথিপত্র যাচাই করে গত বুধবার বিকালে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) রেজাউল আলম জানান।

এ সময় তিনি ছাড়াও ঢাকা বিভাগীয় আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মাহবুবুর রহমান, ফরিদপুর সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. তারিকুজ্জামান, মাদারীপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. ইসমাইল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। 

এ ঘটনায় মাদারীপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে মো. তারিকুজ্জামান জানান। 

এদিকে ঘটনার পর থেকে খাদ্য গুদামটির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সানোয়ার হোসেন গা ঢাকা দিয়েছেন।

অভিযোগ আছে, গত চার মাস ধরে ইউনিয়ন পরিষদের ভিজিডি কার্ডের চাল এবং ডিলারদের ১৫ টাকা কার্ডের চাল সরবরাহ বন্ধ করে দেন সানোয়ার হোসেন। 

গত বুধবার (২৩ নভেম্বর) রাতে সানোয়ার হোসেনের নামে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন চরভদ্রাসন উপজেলা সদর ইউপির চেয়ারম্যান আজাদ খান। 

তার ভাষ্য, “সানোয়ার হোসেন গত চার মাস ধরে আমার ইউনিয়নের প্রায় ৮০ মেট্রিক টন চাল সরবরাহ করেন নাই। একইভাবে উপজেলার চারটি ইউনিয়নের প্রায় ২০০ মেট্রিক টন ভিজিডি কার্ডের চাল তিনি আত্মসাত করেছেন।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ডিলার বলেন, উপজেলার সাত জন ডিলারের মধ্যে একজনের সঙ্গে আতাত করে সানোয়ার হোসেন প্রায় কোটি টাকার চাল আত্মসাত করে লুকিয়ে আছেন। 

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গুদামের নথিপত্র যাচাই করতে গিয়ে সরকারি চাল ঘাটতির বিষয়টি ধরা পড়ে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক প্রশিক্ষণে দেশের বাইরে থাকায় দায়িত্ব পালন করছেন ফরিদপুর সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. তারিকুজ্জামান। 

তিনি বলেন, “বিষয়টি কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বেরিয়ে আসার মত। গুদামের নথিপত্র যাচাই করতে গিয়ে আমরা অনেক গড়মিল পাই। যাচাইয়ের এক পর্যায়ে বড় অংকের চাল আত্মসাতের ঘটনা বেরিয়ে আসে। 

“আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত স্পষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না।”

চরভদ্রাসন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) রেজাউল আলম বলেন, “আপাতত গুদামটি সিলগালা করে রাখা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” 

খাদ্য গুদাম সিলগালার ব্যাপারে এখনো কোনো চিঠি পাননি বলে চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা কবির ত্রপা জানান।

এদিকে, বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পর থেকে গুদামটির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সানোয়ার হোসেনকে পাওয়া যাচ্ছে না। 

গত কয়েক দিন কয়েক দফায় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় এবং গুদামে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। 

বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) বিকালে একবার ফোন রিসিভ করলেও নিজের অসুস্থতার কথা বলে কল কেটে দেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক