১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

নওগাঁয় গভীর নলকূপের ঘরে তালা, সেচ সংকটে ২৭০ বিঘা আলু ক্ষেত

সময়মত জমিতে সেচ দিতে না পারলে ক্ষতির মুখে পড়বেন কৃষকরা।

নওগাঁ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Dec 2024, 10:59 PM

Updated : 26 Aug 2026, 11:07 AM

নওগাঁর মান্দা উপজেলায় বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের একটি গভীর নলকূপের ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

এতে উপজেলার দেবীপুর মৌজায় অন্তত ২৭০ বিঘা জমিতে লাগানো আলু ক্ষেতে সেচ সংকট দেখা দিয়েছে। সময়মত সেচ দিতে না পারলে ক্ষতির মুখে পড়বেন কৃষকরা।

শুক্রবার বিকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ আলম মিয়া।

কৃষকরা বলছেন, নির্ধারিত সময়ের অন্তত ১০ দিন আগে আলুর বীজ রোপণ কাজ শেষ হয়েছে। বরেন্দ্র অঞ্চলের জমিতে বীজ রোপণের এক সপ্তাহের মধ্যে সেচ দিতে হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত গভীর নলকূপটি চালু হয়নি। 

গভীর নলকূপের অপারেটর আলতাজ উদ্দিন বলেন, “দেবীপুর মাঠে আমাদের ৫০ বিঘা ফসলি জমি রয়েছে। প্রায় ১০ বছর আগে ব্যক্তি মালিকানার জমিতে একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়। ওই সময় থেকে আমি অপারেটরের দায়িত্ব পালন করছি।

“দুই সপ্তাহ আগে চৌবাড়িয়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে কয়েক ব্যক্তি জবরদখল করে গভীর নলকূপের ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেন। বিষয়টি নিরসন করে বৃহস্পতিবার দুপুরে সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয় বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।”

পরে ওইদিন রাত ৮টার দিকে মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে আবার গভীর নলকূপের ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ আলতাজ উদ্দিনের।

কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, ১০ দিন আগে ওই মাঠের আট বিঘা জমিতে আলুর বীজ রোপণ করেছেন তিনি। বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটি হওয়ায় জমিতে আর্দ্রতা নেই। এ কারণে রোপণের পাঁচ থেকে ছয় দিনের মধ্যে সেচের প্রয়োজন হয়। 

তবে এখন পর্যন্ত নলকূপটি চালু না হওয়ায় যথা সময়ে সেচ দিতে পারছেন না তিনি। এতে আলুর চারা গজানোর পরিমাণ কমে যাবে বলে জানান তিনি।

মান্দা বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) সহকারী প্রকৌশলী এস এম মিজানুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার জটিলতা নিরসন করে ওই নলকূপে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়।

কিন্তু মোহাম্মদ আলীসহ কয়েক ব্যক্তি আবার রাতে নলকূপের ঘরে কেন তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন তা বোধগম্য নয়; বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

খবর পেয়ে বিকালে ঘটনাস্থল যান ইউএনও শাহ আলম মিয়া। তিনি বলেন, “উপজেলা বিএমডিএর সহকারী প্রকৌশলকে বিষয়টি বলেছি। আশা করছি শীঘ্রই সমস্যার সমাধান হবে।”

তালা দেওয়ার ঘটনায় জড়িত মোহাম্মদ আলীকে মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোনে ধরেননি।