১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

লালমনিরহাটে শিশু হত্যা: অভিযোগ গঠনের ৬ দিনেই রায়, প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড

আসামির বাবা-মাকে দেওয়া হয়েছে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড।

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Aug 2026, 06:34 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:53 PM

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় সাত বছরের শিশুকে হত্যা ও লাশ গুমের মামলায় অভিযোগ গঠনের ছয় কার্যদিবসের মধ্যে রায় দিয়েছেন আদালত। 

মামলার প্রধান আসামি বিধান চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিধানের বাবা রনজিৎ কুমার রায় ও মা মমতা রানীকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রোববার দুপুরে লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. হায়দার আলী এ রায় ঘোষণা করেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) হুমায়ুন রেজা স্বপন।

১৫ জুন আদিতমারীর ফলিমারী গ্রামের নলিনী কান্তের সাত বছরের মেয়ে নন্দিনী নিখোঁজ হয়। পরদিন তার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার দিনই বিধান চন্দ্র রায়কে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযোগপত্র দেয়। ১৬ অগাস্ট মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর ১৭ থেকে ১৯ অগাস্ট সাক্ষীদের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। ২০ অগাস্ট যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রোববার রায় ঘোষণা করেন আদালত।

অভিযোগ গঠনের পর মাত্র ছয় কার্যদিবসে মামলাটির বিচার শেষ হয়েছে। আর নন্দিনী নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে হিসাব করলে দুই মাস আট দিনের মধ্যে মামলার রায় হলো।

মামলার বরাতে আইনজীবী হুমায়ুন রেজা স্বপন বলেন, কানের দুল চুরি ও প্রতিবেশী দুই পরিবারের বিরোধের জেরে নন্দিনীকে হত্যা করা হয়। পরে লাশ গুমে সহায়তার অভিযোগে বিধানের বাবা ও মাকেও আসামি করা হয়।

তিনি বলেন, “অপরাধের বিচার দীর্ঘদিন ঝুলে থাকলে ভুক্তভোগী পরিবার হতাশ হয়। মাত্র ছয় কার্যদিবসে এ মামলার রায় বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াবে।”

নন্দিনীর বাবা নলিনী কান্ত বলেন, মেয়ের হত্যার বিচার এত দ্রুত হবে, তা তিনি ভাবেননি। আদালতের রায়ে তারা সন্তুষ্ট। উচ্চ আদালতের প্রক্রিয়া শেষে মৃত্যুদণ্ড দ্রুত কার্যকর করার প্রত্যাশা করেন তিনি।

তবে রায়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী লুৎফর রহমান রিপন। তিনি বলেন, দ্রুত বিচারের কারণে আসামিরা ন্যায্যবিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন কিনা, তা পর্যালোচনা করতে তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

রায়কে কেন্দ্র করে জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। রায়ের পর আসামিদের কড়া নিরাপত্তায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।