Published : 09 Feb 2026, 09:13 PM
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার একটি আবাসিক ভবন থেকে এক মেডিকেল কলেজ ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে; যাকে জানালার গ্রিলে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার রাত ১০টার দিকে শহরের হাউজিং ই-ব্লক এলাকার সাত তলা ভবনের চারতলার একটি কক্ষ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয় বলে জানান কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি কবির হোসেন মাতুব্বর।
শিক্ষা জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে একজন সুস্থ, স্বাভাবিক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মৃতদেহ পাওয়ার ঘটনাকে রহস্যজনক বলে দাবি করেছেন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম।
মৃত সামিয়া নিঝুম কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি পাবনার চাটমোহর উপজেলার ছোট শালিখা এলাকার মো. আব্দুস সালামের মেয়ে।
ওই বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, নিঝুম মেডিকেল কলেজের পাশের বাসাটির একটি রুম সাবলেট নিয়ে থাকতেন।
তিনি বলেন, “রোববার রাতে নিঝুমের বাবা আমাকে কল দিয়ে বলেন, ‘আঙ্কেল আমার মেয়ে ফোন ধরছে না, একটু দেখেন তো রুমে থাকলে ডেকে দেন।’ আমি তখন নিঝুমের পাশের রুমের এক মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে তাকে ডাকতে থাকি।
“কিন্তু ভেতর থেকে কোনও সাড়া-শব্দ পাওয়া যায়নি। এ সময় চিৎকার করে ডেকেও না পেয়ে নিঝুমের বাবাকে ফোন করে জানাই। একথা শুনে নিঝুমের বাবা দরজা ভেঙে দেখতে বলেন। পরে অন্য মেয়েরা ৯৯৯-এ কল করেন।”
খবর পেয়ে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে নিঝুমের ঝুলন্ত মৃতদেহ পায় বলে জানান বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক রিয়াজ উদ্দিন।
নিঝুমের বাবা আব্দুস সালাম বলেন, “মেডিকেলে ভর্তির পর থেকে মেয়ে মেসে থাকত। সেখানে পড়ালেখার সমস্যা হওয়ায় গত ২৩ জানুয়ারি মেয়েকে প্রয়োজনীয় সবকিছু ঠিকঠাক করে এ বাসায় উঠিয়ে দিয়ে যাই। শনিবার সন্ধ্যায় মেয়ের সঙ্গে শেষ কথা হয়।
“রোববার পরীক্ষা থাকায় সারাদিন কোনও কথা হয়নি বলে সন্ধ্যার পরে মেয়েকে ফোন করি। ফোন না ধরায় পরে ওই বাড়ির লোকের কাছে মেয়ের এ ঘটনা জানতে পারি।”
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম বলেন, “নিঝুম পড়াশোনায় খুবই ভালো ছিল। আর মাত্র একটা বছর পরই তার ডাক্তার হয়ে বের হয়ে যাওয়ার কথা। তবে আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না যে, দ্বিতীয় বর্ষের পর প্রত্যেক মেয়ে শিক্ষার্থীর জন্য মেডিকেলে আবাসিক সিটের সক্ষমতা রয়েছে।
“তবুও কেনো যে এরা মেসে-বাসায় থাকে! আমি ওর (নিঝুম) কোর্স টিচারের সঙ্গে কথা বলেছি; ওনাদের চোখেও কোনো অস্বাভাবিকতা ধরা পড়েনি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণটা পরিষ্কার হওয়া জরুরি।”
তবে ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে অনাপত্তির আবেদন করায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তর হওয়ায় ঘটনার রহস্য উন্মোচনের সম্ভাবনাটুকুও আর রইল না বলে আক্ষেপ করেন অধ্যক্ষ।
ওসি কবির হোসেন বলেন, সোমবার দুপুরে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তর করা হয়। তবে এ বিষয়ে থানায় একটা ইউডি মামলা হয়।