Published : 27 Mar 2026, 04:57 PM
স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে শহীদ মিনারে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় দুই আইনজীবীকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি রতন শেখ জানান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সুনামগঞ্জ শহরের নিজ নিজ বাসা থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় তাদেরসহ ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত পরিচয় আরও ৫০-৬০ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন- সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি ও আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের নেতা মনীষ কান্তি দে মিন্টু এবং মিজানুর রহমান শামীম।
ওসি বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং রাতেই মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। শুক্রবার দুপরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার বাদী সুনামগঞ্জ কোর্টের এসআই আনোয়ারুল হক বলেছেন, স্বাধীনতা দিবসের সকালে জেলা কালেক্টরেট ক্যাম্পাসের শহীদ মিনারে আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের নেতৃবৃন্দ ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান। তাদের কর্মকাণ্ডের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় পুলিশ মামলা করেছে।
মামরার এজাহারে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি অফিসের সামনে মিছিলরত আসামিদের উপস্থিতি টের পায়। পুলিশ পৌঁছানোর পর আসামি ও অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিরা এলোমেলোভাবে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় যে, মিছিলকারীরা সরকারি অফিসে আগুন-ভাঙচুর ও ক্ষয়ক্ষতির জন্য বৈঠক করেছে এবং ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা নিয়েছে। এছাড়া তারা সরকার-বিরোধী শ্লোগ দিচ্ছিল এবং ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করছিল।
মামলায় পুলিশ বলেছে, আসামিরা বাংলাদেশের অশান্তি, জননিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের পরিকল্পনা করেছিল। তাদের কার্যকলাপ সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধিত, ২০১৩)-এর ৬(২), ৮, ৯, ১০, ১২ ও ১৩ ধারার আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মামলার বাকি আসামিরে মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন- জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর খায়রুল কবির রুমেন, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হায়দার চৌধুরী লিটন, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম, শান্তিগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি বোরহান উদ্দিন দোলন, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সেক্রেটারি ও বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য শুকুর আলী, জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও জেলা বারের সদস্য বিমান কান্তি রায়, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিকী উজ্জ্বল, বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের নেতা হাসান মাহমুদ সাদী, জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য পঙ্কজ তালুকদার, জেলা আইনজীবী সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জামালগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল খালেক ও শফিকুল ইসলাম।
মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে বলে ওসি রতন শেখ জানিয়েছেন।