Published : 10 Aug 2025, 08:08 AM
গাজীপুর সদর উপজেলার ভাওয়াল মির্জাপুর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ে সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়তে শুরু করে। তখন উপায়ন্তর না দেখে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কার্যালয়ের ভেতরে ছাতা মাথায় কাজ করতে হয়।
ভূমি কর্মকর্তারা বলছেন, এতে তাদের কাজ করতে খুব সমস্যা হচ্ছে। এ ছাড়া কার্যালয়ের মূল্যবান কাগজপত্র, দলিল-দস্তাবেজ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বুধবার গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে গিয়ে দেখা গেছে, ভূমি কার্যালয়ের মাঝখানের কক্ষে টেবিলের উপরে থাকা কম্পিউটার ও প্রিন্টারসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতাপত্র পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। ছাতা মাথায় নিয়ে কম্পিউটারে কাজ করছেন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোসাম্মৎ হাজেরা আক্তার।

কার্যালয়ে তখন অনেক সেবাগ্রহিতাকে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মো. সরোয়ার জ্বর-ঠান্ডায় ভোগছেন। তিনি দুই দিন ধরে ছুটিতে আছেন।
ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোসাম্মৎ হাজেরা আক্তার বলেন, “বেশ কিছুদিন ধরেই এলাকায় থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। একটু বৃষ্টি হলেই অফিসের ছাদ চুঁইয়ে একাধিক স্থান দিয়ে টিপ টিপ করে পানি পড়তে থাকে। এ কারণে টেবিলে থাকা জরুরি কাগজপত্র, রেজিস্ট্রার তথা ভলিউম পলিথিনে ঢেকে রাখা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “শুধু মাঝখানের এ কক্ষেই নয়, স্টোর রুমসহ চারটি কক্ষেই কমবেশি পানি পড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে জরুরি রেকর্ডপত্র ভিজে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।”

বিষয়টি সদর উপজেলা ভূমি কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে বলে জানান হাজেরা আক্তার।
একই কার্যালয়ের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. সরোয়ার হোসেন বলেন, “এরই মধ্যে নতুন ভবনের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু সেখানে থাকা গাছ কাটা নিয়ে ঝামেলা হচ্ছে। কিন্তু সেই গাছ কাটার অনুমতি না পাওয়ায় সব কাজ থেমে আছে।”
এ অবস্থায় সেবা দিতে সমস্যা হচ্ছে জানিয়ে সরোয়ার হোসেন বলেন, “এই অফিসের আওতায় নয়টা মৌজা রয়েছে। প্রতিদিন ২০০ মত সেবাগ্রহিতা এখানে আসেন। গত অর্থবছরে ৫০০ কোটি টাকার উপরে খাজনা আদায় হয়েছে এখানে।”

“তাই গুরুত্বপূর্ণ এই অফিসটি দ্রুত নির্মাণ করা প্রয়োজন। না হলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, রেকর্ডপত্র ভিজে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা আছে।”
সেবা নিতে আসা মির্জাপুর এলাকার বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমার মত অনেককেই এখানে সেবা নিতে এসে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। কারণ, বৃষ্টির সময় কর্মকর্তারা ঠিকমত বসে কাজ করতে পারছেন না। আমরা এই ভবনটির দ্রুত নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানাচ্ছি।”
এ ব্যাপারে গাজীপুর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মঈন খান এলিচ বলেন, “কাজটা শুরুর আগে সেখানে থাকা কিছু গাছ ও পুরাতন ভবন ভাঙতে হবে। এরই মধ্যে গাছ কাটার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে বৃষ্টির জন্য সব কাজ থমকে আছে।”