Published : 12 Sep 2026, 10:09 PM
আগামী বছর থেকে নিয়মিত নৌকা বাইচের আশা করছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।
শনিবার বিকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে তিতাস নদীতে অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য নৌকা বাইচের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা শহরের শিমরাইলকান্দি থেকে মেড্ডা এলাকা পর্যন্ত অংশে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা নয়টি নৌকা চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। অতীতে নিয়মিত এই প্রতিযোগিতা হলেও বিগত দুই বছর তা বন্ধ ছিল।
সংসদ সদস্য বলেন, “সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও এখানকার সংস্কৃতি নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এই নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রমাণিত হল ব্রাহ্মণবাড়িয়া একটা সাংস্কৃতিক রাজধানী। নৌকা বাইচ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যেরই অংশ।
“মানুষ চায় প্রতিবছর নৌকা বাইচ হোক। আমরা আশা করি, আগামী বছর থেকে নিয়মিতভাবে এটি আয়োজন করতে পারব।”
প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে সদর উপজেলার ক্ষমতাপুর গ্রামের শাপলা বয়েজ ক্লাবের নৌকা। বিজয়ী দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।
দুই বছর পর আবারও বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দে মুখরিত হয় শান্ত তিতাস নদী। শরতের পড়ন্ত বিকালে নৌকা বাইচ দেখে উচ্ছ্বসিত লাখো মানুষ।
বিকাল সাড়ে ৩টায় নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলেও দর্শনার্থীদের ভিড় জমতে শুরু করে দুপুরের আগ থেকেই। একপর্যায়ে নদীর দুই তীর লোকারণ্য হয়ে ওঠে। প্রতিযোগিতা উপভোগের পাশাপাশি প্রিয় দলকে সমর্থন জানান দর্শনার্থীরা।
নৌকা বাইচ দেখতে আসা গ্রিস প্রবাসী সোহাগ মিয়া বলেন, “নৌকা বাইচ আমাদের প্রাণের উৎসব। আমি ঢাকায় ছিলাম। বাইচ দেখতে সকালে অনেক কষ্ট করে ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া এসেছি। নদীর দুইপাড়ে মানুষের উচ্ছ্বাসই প্রমাণ করে এটি আমাদের প্রাণের উৎসব। সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেছে এই আনন্দ উৎসবে এসে।”
আরেক দর্শনার্থী মার্জান ভুঁইয়া বলেন, “নৌকা বাইচকে ঘিরে তিতাস পাড়ের মানুষের মাঝে আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়। গোটা ব্রাহ্মণবাড়িয়া আজ উৎসবমুখর। আমরা আনন্দিত। আমরা চাই, প্রতি বছর এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হোক।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, “নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা এখানকার মানুষের প্রাণের উৎসব। আগামী বছর থেকে আরও জমজমাটভাবে এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে।”
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শরিফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রঞ্জন চন্দ্র দে, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মোবারক হোসেন, জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জহিরুল হক ও সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা উপস্থিত ছিলেন।